মঙ্গলবার সকাল দশটায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুসারে, তাদেরকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বলা হয়েছিল।
বিএনপি জোটের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শপথের আগে সংবিধান সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংবিধানিকভাবে এই ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো শপথ গ্রহণ করা যায় না এবং সংসদকে সংবিধানিকভাবে চলতে হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে, আমীর খসরু আরও যোগ করেন যে, শপথ নেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, জনগণের ইচ্ছা সম্মান করে সংসদে শপথ নেওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে মান্য করা রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি অধিকাংশ নবনির্বাচিতরা, শপথ কক্ষে বসে, মাইক হাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য শোনেন। আহমদ স্পষ্ট করে জানান, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না, কারণ এখনো সংবিধানে এ ধরণের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের পরই সংবিধানে সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করা হবে, এবং তৃতীয় তফসিলে শপথের ফর্ম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। বর্তমান ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে নেই, তাই শপথের আইনি ভিত্তি অনুপস্থিত।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পরেই প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত সংবিধানিকভাবে তারা শপথ নিতে পারে না, এটাই তার দলের অবস্থান।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ রয়েছে, যা আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দলের নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা দলের নীতি অনুযায়ী।
আহমদ আরও যোগ করেন, বিএনপি সংবিধান মেনে চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখবে। তিনি নিশ্চিত করেন, সংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন করা হবে না।
শপথের পরে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলীয় সদস্যদেরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এ.এম.এম. নাসির উদ্দিনের উপস্থিতিতে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এই শপথে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি এখনো সংবিধানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি, তাই সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের আগে শপথ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সংবিধান সংস্কারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।
বিএনপি জোটের অধিকাংশ সদস্যের এই অবস্থান, জামাত জোটের শপথ নেয়ার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। জামাত জোটের পক্ষ থেকে শপথ না নিলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না, এমন ঘোষণাও রয়েছে, যা রাজনৈতিক সমন্বয়ের নতুন দিক উন্মোচন করে।
দলীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত, সংবিধান সংশোধনের আগে কোনো ধাপ অগ্রসর না করার নীতি, সংসদে আইনসভার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, সংস্কার পরিষদের গঠন ও শপথের সময়সূচি সংবিধানিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত হওয়ায়, ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও ভোটের প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত থাকায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের পথ ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, বর্তমান অবস্থায়, সংবিধানিক ভিত্তি না থাকলে শপথ গ্রহণ করা সম্ভব নয়, এটাই বিএনপি ও তার নেতাদের স্পষ্ট অবস্থান।



