গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান, পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি জানানো হয়। নিয়োগের মাধ্যমে শ্রম নীতি ও বিদেশি কর্মসংস্থানের তদারকি করার দায়িত্ব নুরের হাতে অর্পিত হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল নির্ধারণ, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিভাগ বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে। নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নুর এই দুই ক্ষেত্রের সমন্বিত নীতি গঠন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন।
নিয়োগের তথ্য প্রথমবারের মতো গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন তার যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশ করেন। তিনি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে উল্লেখ করেন যে নুরের প্রতিমন্ত্রী হওয়া সরকারী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। পোস্টে রাশেদ খাঁন এই পদক্ষেপকে পার্টি ও সমর্থকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রাশেদ খাঁন গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী। তিনি পূর্বে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পার্টি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সম্প্রতি পার্টি ত্যাগের পর নতুন মোড় নেয়।
দল ত্যাগের পর রাশেদ খাঁন বিএনপির তহবিল গ্রহণ করে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে ভোটের ফলাফল তার পক্ষে না যায়। নির্বাচনে তিনি পারস্পরিক সমর্থন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থায় রইলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন ভূমিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে নুরুল হক নুর বিএনপির সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পটুয়াখালী-৩ আসনে জয়লাভ করেন। তার জয় মূলত স্থানীয় ভিত্তি ও পার্টির সমর্থনের সমন্বয়ে অর্জিত হয়। জয়লাভের পর তিনি শ্রম ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত হন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে তিনি আজ কিছুটা শান্তি অনুভব করছেন এবং তার রাজনৈতিক মিশন শেষ হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য না হতে পারলেও তার কোনো অনুশোচনা নেই এবং সহযোদ্ধা নুরের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এই মন্তব্য তার ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি ও দলের জন্য গর্বের প্রকাশ হিসেবে দেখা যায়।
বিএনপি নেতৃত্ব নুরের এই নিয়োগকে পার্টির কর্মীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে শ্রম ও প্রবাসী ক্ষেত্রের উন্নয়নে নতুন শক্তি যোগ হবে এবং পার্টির নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নুরের পদোন্নতি পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
অন্যদিকে শাসন দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, নুরের নিয়োগের ওপর ইতিবাচক মন্তব্য করে দেশের শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিকের কল্যাণে মনোযোগ বাড়বে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। সরকারী সূত্র থেকে জানা যায়, নতুন প্রতিমন্ত্রীকে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নুরের প্রথম কাজ হবে



