জাতীয় সংসদে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ পার্টি জোটের নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শপথের সময়সূচি দুপুর ১২টায় নির্ধারিত ছিল, তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্টতা নেই তারা শপথ সম্পন্ন করবে কিনা। এই পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছে বিএনপি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর।
বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল ও মিডিয়া ও পাবলিসিটি শাখার প্রধান আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জোটের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদ ভবনে একটি জরুরি বৈঠক করছেন। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমান, নায়েব-এ-আমীর সৈয়দ Abdullah Mohammad Taher এবং জোটের অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা।
জুবায়ের মতে, বৈঠকের শেষে শপথ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তা মিডিয়াকে জানানো হবে। তিনি যোগ করেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৈঠকে নেওয়া হবে। শপথ নেওয়া হবে কিনা তা মিডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
বিএনপি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছে, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার পছন্দ প্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এই অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের কেউই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। যদি সংসদে এই বিষয়টি সংবিধানিকভাবে গৃহীত হয়, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।”
বিএনপি’র এই অবস্থান জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের শপথ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। জুবায়ের মন্তব্যে দেখা যায়, “বিএনপি’র সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার অবস্থার ভিত্তিতে এখন শপথ সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
শপথের নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টা হলেও, জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এখনও চলমান ছিল। বৈঠকের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, সংসদ সদস্যদের শপথের সময়সূচি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই অনিশ্চয়তা সংসদীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ শপথ না নেওয়া সদস্যরা এখনও আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অধিকার পাবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, শপথের দেরি হলে জোটের আইনসভার অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
বিএনপি’র সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত সংবিধানিক প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদি সংসদে এই বিষয়টি সংবিধানিকভাবে গৃহীত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।
জুবায়ার উল্লেখ করা হয়েছে, শপথ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা মিডিয়াকে জানানো হবে, ফলে জনসাধারণের কাছে স্পষ্টতা আসবে। বর্তমান সময়ে জোটের নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে তীব্রভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া বিএনপি সদস্যদের অবস্থান এবং জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের শপথের অনিশ্চয়তা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



