কলম্বোর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গেমে, যখন পাকিস্তানের রান তাড়া চলছিল, তখন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ তিলাক ভার্মা ও রিঙ্কু সিংকে বোলার হিসেবে ব্যবহার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। উভয় খেলোয়াড়কে পার্ট‑টাইম বোলার হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, তাদের বোলিংই পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের ত্রয়োদশ ওভারে তিলাক ভার্মা প্রথম বোলার হিসেবে ঢুকে পড়েন। প্রথম বলেই তিনি উইকেট নেন, শাদাব খানকে ছক্কা মারার চেষ্টায় আউট করে দেন। এরপর তিনি আরেকটি ওভার সম্পন্ন করেন, যদিও অতিরিক্ত কোনো উইকেট না পেলেন। তিলাকের এই অল্প বোলিংই পাকিস্তানের রানের গতি ধীর করে দেয়।
রিঙ্কু সিংকে সপ্তদশ ওভারে আক্রমণে আনা হয়। ওই মুহূর্তে ভারত এ’র জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে রিঙ্কুর বোলিং মূলত ম্যাচের শেষের দিকে সীমিত প্রভাব ফেললেও, পাকিস্তানের জন্য আরেকটি মানসিক আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। মূল বোলারদের বিশ্রাম দেওয়া হয় এবং পার্ট‑টাইম বোলারদের ওপর নির্ভর করা হয় এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে।
তিলাক ভার্মা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৭.৩ ওভার বোলিং করেছেন, আর রিঙ্কু সিংয়ের অভিজ্ঞতা মাত্র ১.৪ ওভার। দুজনেরই বোলিং অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও, এই ম্যাচে তাদের ব্যবহার পাকিস্তানের জন্য অপ্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনতে যথেষ্ট ছিল।
পাকিস্তানের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান বাসিত আলি এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের তিলাক ও রিঙ্কুকে বোলিংয়ে আনা পাকিস্তানের ক্রিকেটের প্রকৃত মান প্রকাশ করে। আলি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদিপ ইয়াদাভ, জাসপ্রিত বুমরাহ বা ভারুন চক্রবর্তীর কথা তুলছেন না।
আলির মন্তব্যে তিনি পাকিস্তানের বোলিং কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, বিশেষ করে যখন মূল বোলারদের বদলে অল্প অভিজ্ঞ পার্ট‑টাইম বোলারদের ওপর নির্ভর করা হয়। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত দলকে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন করেছে।
সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের প্রথম স্পেলের দুই ওভার পরেই তিনি জাসপ্রিত বুমরাহকে আবার বোলিংয়ে আনা প্রয়োজনীয় মনে করেননি। ফলে বুমরাহের ব্যবহার সীমিত হয়ে যায় এবং দলের বোলিং পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়। আকসার প্যাটেল ছাড়া অন্য কোনো বোলার চার ওভার সম্পন্ন করতে পারেনি, যা দলের বোলিং রোটেশনকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ম্যাচের শেষের দিকে, যখন ভারত এ’র জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পাকিস্তানের রানের গতি হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত তারা লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। তিলাক ও রিঙ্কুর অল্প বোলিংই পাকিস্তানের রানের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ভারত এ’র জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের পর, ভারত এ’র পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হবে, যেখানে তারা একই টুর্নামেন্টে অন্য দলের মুখোমুখি হবে। পাকিস্তানের জন্যও পরবর্তী গেমে বোলার রোটেশন পুনর্বিবেচনা করা জরুরি, যাতে অপ্রত্যাশিত পার্ট‑টাইম বোলারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না থাকে।



