27 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ১০০ সৈন্য নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ দমন মিশনে যোগ দিল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ১০০ সৈন্য নাইজেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ দমন মিশনে যোগ দিল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় একশো সৈন্য ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে নাইজেরিয়া উত্তর‑পূর্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠে, যা দেশের ধর্মীয় সংবেদনশীলতায় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা জানিয়েছেন, মার্কিন সৈন্যরা স্থানীয় বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও পরামর্শে সহায়তা করবে, তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। এই অবস্থানটি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার সীমা নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পূর্বে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী প্রায় ২০০ মার্কিন সৈন্যের আগমনের আশা প্রকাশ করেছিল।

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী উত্তর‑পূর্বে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তার পরপরই একটি ছোট মার্কিন দল গিয়ে নাইজেরিয়ার গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করে। সাম্প্রতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা দেখায়, কয়েকটি মার্কিন বিমান সামরিক সরঞ্জাম ও কর্মী নিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে অবতরণ করেছে।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র সানডে ডেয়ার উল্লেখ করেছেন, দেশের যুদ্ধবিমান ও অস্ত্রের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন। তবে তিনি কতজন মার্কিন সৈন্য উপস্থিত থাকবে বা তারা কতদিন থাকবে তা স্পষ্ট করেননি। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি, যার অর্ধেকের বেশি খ্রিস্টান এবং বাকি অংশ মুসলিম, যেখানে দক্ষিণে খ্রিস্টান ও উত্তরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।

আঞ্চলিক বিশ্লেষক রাহুল চৌধুরী বলেন, “মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন না করলে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ধরনের সহযোগিতা সাধারণত প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা শেয়ারিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকে, সরাসরি লড়াইয়ে না গিয়ে দু’পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা হয়।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, নাইজেরিয়া উত্তর‑পূর্বের অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের বিস্তারকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তাই সামরিক সহায়তা বাড়ানো একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে, ট্রাম্পের মন্তব্যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে সমালোচনা উঠে এসেছে, যা নাইজেরিয়ার সরকারকে ধর্মীয় বৈষম্য না করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে বাধ্য করেছে।

নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়ের ওপর আক্রমণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমানভাবে কাজ করছে। এই অবস্থানটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশীয় ধর্মীয় সমতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই নতুন মিশনকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তা প্রদান করে। তবে, এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গতিবিদ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সংলাপ ও মানবিক সহায়তা সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে, মার্কিন ও নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নজর রাখবে, কীভাবে এই সামরিক সহযোগিতা ধর্মীয় সংহতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments