মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজু আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, যাতে তিনি বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। শপথ অনুষ্ঠানটি বিকাল বেলা নির্ধারিত এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই সফরটি মালদ্বীপ সরকার এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মুইজু বিমানবন্দরে নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অস্থায়ী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেনের স্বাগত পান। বিমানবন্দরের গেটে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তদারকি এবং দেশীয়-বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে বিশাল দল উপস্থিত ছিল। স্বাগত অনুষ্ঠানে দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রিপরিষদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বহু উচ্চপদস্থ বিদেশি অতিথি উপস্থিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ত্সেরিং টোবগাই, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা, নেপাল সরকার ও শ্রীলঙ্কা সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা বিকালের সমাবেশে যোগ দেবেন। এছাড়াও সিঙ্গাপুর ও জাপানের কূটনৈতিক মন্ত্রিপরিষদের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
অস্থায়ী সরকার এক ডজনের বেশি দেশের শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যার মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনওয়ার ইব্রাহিম অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও নেপাল সরকার, শ্রীলঙ্কা সরকার এবং কাতার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই বৃহৎ তালিকা নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি নিউ দিল্লিতে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের কারণে উপস্থিত হতে পারছেন না। তাই তিনি ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলাকে মালদ্বীপ সরকারের প্রতিনিধিত্বের জন্য পাঠিয়েছেন। সামিটের গুরুত্ব ও সময়সূচি উল্লেখ করে ভারতীয় সরকার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফের বিদেশ ভ্রমণের ফলে ফেডারেল পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল শপথ অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধি হবেন। পাকিস্তান সরকার এই প্রতিনিধিত্বকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাজ্য সরকারও শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে; ইন্ডো‑প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী সীਮਾ মালহোত্রা তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাজ্য এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে চায়।
চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ব্রুনেইয়ের নেতৃবন্দকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যদিও তাদের উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত হয়নি। এই দেশগুলোর অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের স্বীকৃতি ও সমর্থন বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার আজকের শপথের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসবে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সকালের শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠনের কাজ শুরু করেছে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষত মালদ্বীপ



