বিএনপি থেকে নির্বাচিত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টা অর্ধেকের দিকে সরকারী গৃহে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পরই তারা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন, যেখানে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের প্রস্তুতি চলছে।
সচিবালয়ের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে ৪৭টি সরকারী গাড়ি এবং সমপরিমাণ চালক অপেক্ষা করছিল। এই গাড়িগুলো সরকারী পরিবহন পুল থেকে সকাল ১০ টা অর্ধেকের দিকে সরিয়ে আনা হয়। গাড়িগুলোকে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গাড়ির সংখ্যা ও চালকের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও মন্ত্রিপরিষদ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গাড়ি বরাদ্দ করা হবে না। তারা ৪৭টি গাড়ি ও চালককে প্রস্তুত রেখেছেন, এবং নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়ি প্রেরণ করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এমপিদের শপথের পর মন্ত্রিদের জন্য গাড়ি চেয়ে নির্দেশনা আসবে, এরপরই গাড়ি পাঠানো হবে। মোট ৬৮টি গাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি গাড়ি সচিবালয়ে সংরক্ষিত। অতিরিক্ত গাড়ি রাখা হয়েছে যাতে কোনো গাড়িতে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রধানত টয়োটা ক্যামরি মডেলের গাড়ি এবং কিছু মিটসুবিশি ল্যান্সার গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। এই গাড়িগুলো সরকারী কর্মী ও মন্ত্রিদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, শপথের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠনের পর থেকে নতুন মন্ত্রিসভার সকল সচিবিক কাজ পরিচালনা করে আসছে।
বিএনপি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। তবে জামায়াতের নেতা আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের শর্তে শপথ নেবেন বলে জানান।
তাহেরের মতে, যদি বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়, তবে জামায়াতের নবনির্বাচিত সদস্যরাও কোনো শপথ নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারবিহীন সংসদকে তারা অর্থহীন বলে গণ্য করে।
জামায়াত-এ-ইসলামি এই অবস্থানকে স্পষ্ট করে, তাদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথের সময় দুপুর ১২ টায় নির্ধারিত হয়েছে। তবে শপথের শর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের সমন্বয় প্রয়োজন।
বিএনপি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করবে না। এই অবস্থান ভবিষ্যতে সংসদীয় কাজের গতি ও সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারী গাড়ি ও চালকের প্রস্তুতি, মন্ত্রিসভার শপথের সময়সূচি এবং জামায়াত-এ-ইসলামির শর্তযুক্ত শপথের দাবি সবই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে মন্ত্রিসভার শপথ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা দেশের শাসন কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



