১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ১১টার দিকে শাহবাগের একটি সরকারি অফিসের সামনে অজানা ব্যক্তিরা সমাবেশ করে স্লোগান দিতে শুরু করে। একই সময়ে অফিসের বিভাগের প্রধান জাহিদুল করিম ফোনে জানিয়ে দেন যে, কিছু লোক ভবনের সামনে জড়ো হয়েছে এবং দ্রুত উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রায় এক ঘণ্টা পরে, শাটার ভাঙতে দেরি হওয়ায় আক্রমণকারীরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় গ্লাস ভেঙে প্রবেশের পথ তৈরি করে। শাটার কিছুটা ফাঁকা করার পর তারা দলবদ্ধভাবে ভবনের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে চেয়ার, সোফা, টেবিল, বই‑পুস্তক এবং অফিসের নথিপত্র নিচে নিক্ষেপ করা হয়। নিক্ষিপ্ত জিনিসপত্রের উপর আগুন লাগিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়, ফলে ভবনের কিছু অংশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
রাত ১২টা অর্ধেকের পর আক্রমণকারীদের একটি দল ডেইলি স্টার‑এর দিকে মিছিলের রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফটোসাংবাদিকদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সাংবাদিকের অফিসের পরিচয়পত্র লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। অন্য একজন সহকর্মী তার পরিচয়পত্র দিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর নির্দেশ দেন।
মিছিলের পথে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় অচল অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, তবে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। আক্রমণকারীরা স্লোগান দিয়ে ডেইলি স্টার‑এর দিকে অগ্রসর হয়, ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ে।
ঢাকা পুলিশ বিভাগের মুখপাত্রের মতে, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং আক্রমণকারীদের সনাক্ত করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে আক্রমণটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদন অনুসারে, আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে গৃহহত্যা, সম্পত্তি ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারণের জন্য আগামী সপ্তাহে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মিডিয়া সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি না করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও শক্তিশালীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।



