প্রধান উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদত্যাগের পর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে ক্যাবিনেট সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো নতুন সরকারের শপথের আগে মাত্র তিন দিন আগে ঘটেছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ করতেন শেখ আবদুর রশীদ, যিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। একই সময়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও নিজের পদ থেকে সরে যান। উভয় কর্মকর্তার পদত্যাগের কারণ সরকারী নীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গৃহ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্বে স্থাপন করা হয়েছে। তার নতুন দায়িত্বে মন্ত্রিপরিষদ ও সরকারী নীতি সমন্বয়, পাশাপাশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলির তদারকি অন্তর্ভুক্ত।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ স্তরের পদে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক সচিবদের পরিবর্তে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে।
বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সম্ভাব্য বদলির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিছু জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে থাকা কর্মকর্তার বদলি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই প্রস্তুতি সরকারী কাঠামোর পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
পুলিশ বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কর্মকর্তারা উল্লেখ করছেন, নতুন সরকার গঠনের পর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শীর্ষ পদে নতুন মুখ দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। শপথের পরপরই প্রশাসনিক পরিবর্তনের গতি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধিকাংশ কর্মকর্তার মতে, নতুন সরকারে দলীয়করণ না করে merit‑based (মেধা ভিত্তিক) নিয়োগের নীতি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করছেন, বিএনপি শাসনকালে দলীয় নীতি না নিয়ে দক্ষ কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ‘মেরিটোক্রেসি’ ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার কথা উল্লেখ করেছে। এতে মেধা, সততা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রধান মানদণ্ড হবে, এবং কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে বাদ না দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো রওনক জাহানও এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলছেন, অতীতের দলীয়করণ বন্ধ করে স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে সরকারী সংস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমে।
প্রশাসনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়েছে। কেউ কেউ নতুন পদে নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ বদলির জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নতুন সরকারের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা পদত্যাগ, ক্যাবিনেট সচিবের নতুন নিয়োগ এবং শীর্ষ স্তরের বদলির সম্ভাবনা নতুন সরকারের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোর পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে। এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



