27 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবগুড়ার ভাঙা আওয়ামী লীগ জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে

বগুড়ার ভাঙা আওয়ামী লীগ জেলা কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে

বগুড়া জেলার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জেলা কার্যালয়ের ভাঙা ভবনে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে। পতাকা কে বা কীভাবে তুলেছে তা নিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন।

কার্যালয়ের ছাদে উঁচু করে তোলা পতাকা প্রথম নজরে নজর কেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পতাকার দিক ও অবস্থান স্পষ্ট, তবে তা কখনো উঠানো হয়েছে তা নিয়ে কোনো স্বীকৃতি নেই। ছবিতে দেখা যায়, পতাকার দণ্ডটি ভাঙা দেয়ালের পাশে স্থাপন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এনসিপিআই ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের দ্বারা হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দিন কর্মীরা ভবনের দরজা ভেঙে ঢুকে গিয়ে জানালার কাচ ভেঙে ফেলে এবং গৃহস্থালির সামগ্রী নষ্ট করে।

একই বছরের ৫ আগস্ট আবার কার্যালয়ে আগুন জ্বালানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ভবনের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়, তবে কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পাঠিয়ে অগ্নি নিভিয়ে দেয়।

পরবর্তী বছর, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, এনসিপিআই ও ইনকিলাব মঞ্চের কিছু সদস্য বুলডোজার ব্যবহার করে কার্যালয়ের এক অংশ আবার গুঁড়িয়ে দেয়। গুঁড়িয়ে ফেলা অংশের নিচে থাকা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের অফিস অক্ষত থাকে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে ছাত্র ইউনিয়নকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচে অবস্থিত বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের অফিসে কোনো ক্ষতি না হওয়া ঘটনাটিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি সূক্ষ্ম সংকেত হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, ছাত্র ইউনিয়নের অক্ষত থাকা সম্ভবত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে কিছু সীমা রক্ষা করার ইঙ্গিত হতে পারে।

ভাঙা ভবনের দেয়ালে একটি নোটিশে লেখা রয়েছে, “বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবে না।” এই লেখাটি স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ পতাকার উত্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা কোন সময়ে ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি ঢাকায়। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।” তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এবং তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভাঙা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তোলা একটি প্রতীকী কাজ, যা স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার দখল বা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজের ফলে উভয় দলই জনমত সংগ্রহে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে।

বগুড়া জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ, এবং এই নতুন ঘটনা স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে। উভয় দলই এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে নিজেদের ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে, তবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বগুড়া জেলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ এখন এই ঘটনায় নির্ভরশীল, এবং জাতীয় পতাকার উত্থানকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো পরবর্তী সময়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments