মঙ্গলবার সকাল আটটায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের সময় বায়ু মান সূচক ২৬০-এ পৌঁছায়, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত।
এই শপথ অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনের দরবার হলে না হয়ে, খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শপথের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল চারটায়, তাও একই উন্মুক্ত স্থানে।
বায়ু দূষণের অবস্থা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আইকিউএয়ার সংস্থা দ্বারা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বর্তমানে বিশ্বে ১২১টি শহরের মধ্যে বায়ু দূষণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
সকালের দিকে ধানমন্ডি এলাকায় বায়ু মান সূচক ২৯০ পর্যন্ত রেকর্ড করা যায়। সূচক ২০০‑এর উপরে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০‑এর উপরে হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। তাই শপথ গ্রহণের সময় পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট।
সংসদ সদস্যদের গাড়ি দিয়ে সংসদ ভবনে আসার পথে এই দূষিত বায়ুর মধ্য দিয়ে গমন করতে হবে, যা শপথের গুরুত্বের সঙ্গে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে একত্রিত করে।
মন্ত্রিসভার শপথের সময়ও একই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বিকেলের বায়ু মান সূচকে কিছু পরিবর্তন হতে পারে, তবে পরিষ্কার বাতাসের সম্ভাবনা কমই দেখা যায়।
ঢাকার শুষ্ক মৌসুমে বায়ু দূষণ নিয়মিত ঘটতে থাকে, এবং এই পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার পুরো দিনই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুর মধ্যে নগরবাসীকে কাটাতে হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বায়ু দূষণের ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বায়ু দূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়ে সরকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে সেগুলো কার্যকর ফলাফল দিতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বেশ কিছু পরিকল্পনা ঘোষিত হয়েছিল, তবু বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এই শপথ অনুষ্ঠানের সময় বায়ু মানের অবনতি রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিগণকে পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন বাংলাদেশ সরকারের উপর বাড়ছে। শপথের এই প্রতীকী মুহূর্তটি পরিবেশ সংক্রান্ত জনমত গঠনে এবং নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



