বিএনপি চেয়ারম্যান ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার মালিক তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তার পরিবর্তে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমনকে নতুন সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদত্যাগের পেছনে পত্রিকার পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা প্রধান লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি মিডিয়া সেল ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুমন এখন থেকে পত্রিকার সব প্রশাসনিক ও সম্পাদকীয় কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন। একই দিনে রুমনের নতুন পদ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
তারা উল্লেখ করেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন পরিবেশের মাঝেও তারেক রহমান পত্রিকার প্রকাশনা ও সম্পাদকীয় কাজের শীর্ষে ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আদালতের লড়াই এবং সরকারী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি প্রকাশনা চালিয়ে গেছেন। এই সময়ে পত্রিকাটি বহুবার বন্ধের মুখে পড়লেও তিনি প্রকাশনা পুনরায় চালু করার চেষ্টা করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি মিডিয়া সেলের পাশাপাশি “আমরা বিএনপি পরিবার” গোষ্ঠীর আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। রুমনের সাংবাদিকী ক্যারিয়ার এবং সংগঠনের অভিজ্ঞতা তাকে পত্রিকার নতুন কর্ণধার হিসেবে উপযুক্ত করে তুলেছে।
রুমন সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের অধীনে পত্রিকার দৈনন্দিন কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রুমনের নেতৃত্বে পত্রিকার সব সম্পাদকীয় ও প্রকাশনামূলক কাজ পরিচালিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্তভাবে পত্রিকার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তারেক রহমান বর্তমানে দেশের শাসন ও দলীয় নীতিনির্ধারণে ব্যস্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিশাল জয়ের পর নতুন সরকার গঠন এবং শাসনতান্ত্রিক সংস্কার কাজের দায়িত্ব তার ওপর বেশি। তাই তিনি পত্রিকার দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে দলীয় কাজের ওপর মনোযোগ দিতে চান।
রুমনের দায়িত্ব গ্রহণের পেছনে আরেকটি কারণ হল পত্রিকার সম্পাদকীয় ও প্রকাশনামূলক কাজকে পেশাদার সাংবাদিকদের হাতে সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পত্রিকার স্বতন্ত্রতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াবে এবং পাঠকদের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।
গত বছরগুলোতে দৈনিক দিনকাল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের আদেশ এবং প্রকাশনা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে আদালত ও রাস্তায় দীর্ঘ লড়াই চালাতে হয়। এইসব চ্যালেঞ্জের পরেও পত্রিকা তার সোনালী ঐতিহ্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে পত্রিকাটি তার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করবে বলে কর্মীরা আশাবাদী। রুমনের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি ও প্রকাশনা প্রক্রিয়ায় আধুনিকীকরণ আনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন পত্রিকাকে আবার দেশের প্রধান রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমের শীর্ষে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের পদত্যাগ এবং রুমনের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ পত্রিকার পরিচালনায় পেশাদার সাংবাদিকদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ভবিষ্যতে পত্রিকাটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সংবাদ সরবরাহে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।



