মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে গাড়ি চালিয়ে বিএনপি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রবেশ শুরু করে। একই দিনে সকাল ১০ টায় শপথ কক্ষে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত। প্রধান নির্বাচন কমিশার এ.এ.এম.এম নাসির উদ্দিন শপথের বাক্য পাঠ করবেন।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি শপথের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করবে। তাই শপথের সময়সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল দশটায় প্রথমে বিএনপি সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া হবে।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গেটের প্রবেশদ্বারে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা কর্মীরা সতর্কতা বজায় রাখছেন।
বিএনপি নেতারা ১৫ বছর পর পুনরায় সংসদ ভবনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বয়কটের পর, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরেও ভোট বয়কটের অভিযোগ তুলে দলটি সংসদে ফিরে আসেনি। এখন নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপি সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ শপথের আগে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “নতুন সদস্য হিসেবে সংসদ ভবনে পা রাখলাম… এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। একটা অন্যরকম অনুভূতি জাগ্রত হচ্ছে। আল্লাহর কাছে শোকর গোছার করি যে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি তার রহমতে। ধানের শীষের বিজয়ে বাংলাদেশ নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যাবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”
সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরীও শপথের আগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শোকর গোছার করি, দেড় যুগ পর ধানের শীষের এই সংসদে তারেক রহমানের নেতৃতে শপথ নিতে আমরা যাচ্ছি। দেড় যুগ আগে আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদে এসেছিলাম। আজকের দিনটি আমরা যারা সংসদের সদস্য হয়ে নির্বাচিত হয়েছি, তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”
শপথের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি, সংসদ ভবনের আশেপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা রক্ষী এবং সিভিল গার্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। গেটের প্রবেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যানিং এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের মাধ্যমে সকল প্রবেশকারীকে যাচাই করা হয়।
এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৫ বছর পর বিএনপি পুনরায় সংসদে প্রবেশের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি নিয়ে আসার প্রত্যাশা বাড়ছে।
বিএনপি শপথের আগে উল্লেখ করেছে যে, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারা দেশের উন্নয়ন ও কৃষি খাতে অগ্রগতির জন্য কাজ করবে। ধানের শীষের বিজয়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চায়।
অন্যদিকে, সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত গার্ড এবং পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শপথের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শপথের পর, নতুন সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটিতে নিযুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি শপথের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পুনরায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার সংকল্প জ্ঞাপন করেছে। এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক সমতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।



