সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাড়া ও গ্রামে মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ‑৩ এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সূচি জানিয়ে দেয়। গাছের শাখা কাটা, জরুরি মেরামত এবং লাইন সংরক্ষণ কাজের জন্য মোট নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত এই পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সিলেটের লালাবাজার ফিডারের অধীনে থাকা তেলিবাজার, বদিকোনা, ভালকি, ভরাউট, লালাবাজার নিজগাঁও, টেংরা, বেতসান্ধি, মুন্সীরগাঁও, মুন্সিবাজার, ফরহাদপুর, কারাড়পাড়, গাঙ্গাপাড়, মনোকুপা, আলমনগর, ছমিপুর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, শাটডাউন চলাকালেও বিদ্যুৎ লাইনগুলোকে সক্রিয় হিসেবে গণ্য করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, নির্ধারিত সময়ের আগে হলেও, বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা হবে। তাই বাসিন্দারা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়াতে লাইন স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গাছের শাখা-প্রশাখা পরিষ্কার করা এবং পুরনো লাইনগুলোকে মেরামত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা রোধে সহায়ক হবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়ে কিছু ব্যবসা ও গৃহস্থালির কার্যক্রমে অস্থায়ী অসুবিধা হতে পারে, তবে নিরাপত্তা ও স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য।
বিভাগের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধের ফলে রোগী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত হতে পারে। তাই জরুরি ক্ষেত্রে জেনারেটর বা বিকল্প শক্তি সরবরাহের ব্যবস্থা করা উচিত। এছাড়া, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজ এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোকে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার পর্যন্ত সঠিকভাবে সংরক্ষণে সতর্ক করা হয়েছে।
বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শাটডাউন চলাকালীন গ্রাহকদের সহযোগিতা ও ধৈর্য্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দ্রুত সমাপ্তি এবং বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের পূর্বে একই রকম রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে লাইনগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটেনি। এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, পরিকল্পিত বন্ধের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
অবশেষে, বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে, বিদ্যুৎ বন্ধের সময়ে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করবেন। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে, বিদ্যুৎ পুনরায় চালু হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার হবে।



