দুপুরের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ১২ জন তরুণ সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করলেন, যা জুলাই মাসের গণউত্থানের পর গঠিত নতুন পার্লামেন্টের প্রথম পদক্ষেপ। এরা ২৯৭ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৪.০৪ শতাংশ গঠন করে, ফলে সংসদে যুব প্রতিনিধিত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই তরুণদের মধ্যে পাঁচজনের নির্বাচনী জায়গা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) থেকে, যা জুলাই উত্থানের নেতা-নেত্রীরা গঠন করেছেন। ১৩ই জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গড় বয়স ৫৯ বছর নির্ধারিত হয়েছে। বয়সভিত্তিক ভাগে ২৫-৩৪ বছর বয়সের ৩.৩ শতাংশ, ৩৫-৪৪ বছর বয়সের ৬.৭৩ শতাংশ, ৪৫-৫৪ বছর বয়সের ১৮.৮৬ শতাংশ, ৫৫-৬৪ বছর বয়সের ৩৩.৬৭ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের উপরে ৩৬.৩ শতাংশ সদস্য রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২৫-৩৪ বছর বয়সের সংসদ সদস্যের সংখ্যা মাত্র ৩.৩ শতাংশ হলেও, এই তরুণদের উপস্থিতি পার্লামেন্টকে পূর্বের তুলনায় বেশি গতিশীল ও যুবকেন্দ্রিক করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
TIB এর “Know Your Candidate” পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখায়, এই বছর ২৫-৩৪ বছর বয়সের প্রার্থীর অংশগ্রহণ ৯.৪১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৩.৯৬ শতাংশ, ২০১৮ সালের ০.১৬ শতাংশ এবং ২০১৪ সালের শূন্য শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
জাতীয় যুব নীতি ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সের নাগরিককে যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, ফলে এই তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
নবনির্বাচিত তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সের সংসদ সদস্য হলেন আবদুল হান্নান মাসুদ, যিনি ২৬ বছর বয়সে নোয়াখালী-৬ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
NCP থেকে নির্বাচিত অন্য দুই তরুণ হলেন সাহিদুল ইসলাম এবং আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ), উভয়েই ২৭ বছর বয়সে যথাক্রমে ঢাকা-১১ ও কুমিল্লা-৪ থেকে জয়লাভ করেছেন।
র্যাংপুর-৪ থেকে ২৮ বছর বয়সী আকতার হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আল আমিনও NCP তে নির্বাচিত তরুণ প্রতিনিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
NCP এর বাইরে, ২৯ বছর বয়সের মোঃ আবু তলিব ঝিনাইদহ-৪ এবং ৩৩ বছর বয়সের মোঃ আমির হামজা কুষ্টিয়া-৩ থেকে সংসদে প্রবেশ করেছেন।
বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের দুইজন প্রতিনিধি, মুহাম্মদুল্লাহ (ময়মনসিংহ-২) এবং সাঈদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা, তরুণদের সঙ্গে সংসদে অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসবেন।
তরুণ সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ফলে নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক উদ্যোগের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও ডিজিটাল অবকাঠামো সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে এই তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা তরুণদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও বাস্তবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমর্থন ও পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করছেন।
সংসদে আজকের শপথ অনুষ্ঠান শেষে, নতুন সদস্যরা জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু করবেন, যেখানে বাজেট, আইন প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার অগ্রাধিকার হবে।
এই তরুণ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং নীতি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



