দুপুরের শুরুর দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়, যা আজকের সকালেই নতুন আইনসভা সদস্যদের শপথের পর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসন শেষ করে, জনগণকে নতুন শাসনব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে চায়।
অন্তর্বর্তী সরকার, যা জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তদারকি করেছিল, তার দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, প্রধান উপদেষ্টা, গতকাল তেজগাঁও অফিসে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সমবেত করে বিদায়ী ভাষণ দেন। একই সময়ে কয়েকজন উপদেষ্টা তাদের নিজ নিজ অফিস থেকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছেন।
বিদায়ী সমাবেশের পর ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি জনগণের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রদান করেন, যেখানে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
বিএনপি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে বাকি রয়েছে যে তার সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেবে কিনা। পার্টির অভ্যন্তরে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
জুলাই জাতীয় চাটার (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে ১৩তম সংসদের সদস্যদের দ্বৈত দায়িত্ব থাকবে: তারা সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন করবে এবং একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে ৪৮টি ধারা সংশোধনের কাজ করবে। এই কাজটি আদেশে নির্ধারিত ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
দ্বৈত দায়িত্বের ফলে সদস্যদের দুটি পৃথক শপথ নিতে হবে—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। শপথের রূপ ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান এখনও চূড়ান্ত করা বাকি।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য সালাহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেবল তখনই সম্ভব হবে যখন সংশ্লিষ্ট সংবিধান সংশোধনী গৃহীত হবে, তৃতীয় সূচিতে শপথের ফর্ম অন্তর্ভুক্ত হবে এবং শপথ গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত হবে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষেই নতুন আইনসভা সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানের সূচনা সকাল দশটায় নির্ধারিত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। এই শপথের পর নতুন সরকার গঠন ও সংবিধান সংস্কার কাজের সূচনা হবে।
শপথের পর নতুন সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা কীভাবে পরিচালনা করবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনগত সংস্কারের গতি নির্ধারণ করবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমের ফলাফল আগামী মাসে দেশের শাসনব্যবস্থার কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।



