ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো প্রধান অফিসে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ৯টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা ভবনের শাটার, বড় কাচের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে লুটপাট শুরু করে এবং দ্রুতই অগ্নিকাণ্ড ঘটায়। অগ্নি শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুরো ভবন ধূমায়িত হয়ে যায়।
আক্রমণকারীরা ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও বাধা দিয়ে তাদের কাজ থামিয়ে দেয়। এই সময়ে তারা ভবনের ভেতরে থাকা কর্মচারীদের ওপর হিংসাত্মক আচরণ করে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কঠিন হয়ে পড়ে।
আগুনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ছাদ ও কাচের অংশ ভেঙে যায়। একই রাতে দৈনিক স্টার পত্রিকার অফিস ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটেও আক্রমণ করা হয়, যেখানে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা রেকর্ড করা যায়।
প্রথম আলোয়ের মুদ্রণ কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব পড়ে। ১৯ ডিসেম্বর, আগুনের পর প্রথম আলোয়ের মুদ্রণ সংস্থা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে। তবে কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয় এবং মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ডিজিটাল সংবাদ প্রকাশ পুনরায় শুরু হয়। ২০ ডিসেম্বর, মুদ্রিত সংস্করণ পুনরায় বাজারে পৌঁছায় এবং পাঠকরা তা গ্রহণ করে।
আক্রমণের পর পুলিশ দ্রুত FIR দায়ের করে এবং বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে। দলটি ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ এবং আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও বাধা দেওয়ার রেকর্ডও সংগ্রহ করা হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর, পুলিশ একটি যুবককে গ্রেপ্তার করে, যাকে কুড়াল হাতে ধরা পড়ে। তাকে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সাক্ষী বিবৃতি নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। আদালতে মামলার শোনানি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রমাণ উপস্থাপন ও অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে বাধা দেওয়া অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
মিডিয়া সংস্থার ওপর এই ধরনের আক্রমণ দেশের সংবাদ পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং আইন প্রয়োগের ত্বরান্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের চেষ্টা করা হবে।
প্রথম আলোয়ের কর্মীরা এই আক্রমণের পরেও প্রকাশনা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছে এবং পাঠকদের সঠিক তথ্য সরবরাহে অটল রয়েছে। অব্যাহত তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



