মেন’স T20 বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ১৮০ রানেই থেমে যায়, ফলে শীঘ্রই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। শ্রীলঙ্কার প্রথম শতকোটি পার্থন নিসান্কা বললেন, শুরুর সময় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দেখে সবাই ২২০ রানের বেশি স্কোরের আশা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা প্রায় ২০-৩০ রান কমে গেল।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথমার্ধে মিচেল মার্শের ফিরে আসা সঙ্গে সঙ্গে টিমে তাজা উদ্যম যোগায়। টিমের ক্যাপ্টেন ট্র্যাভিস হেডের সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা শ্রীলঙ্কার উপর প্রাথমিক চাপ সৃষ্টি করে এবং নয় ওভারের মধ্যে ১০৪ রান তৈরি করে, যা বড় টার্গেট গড়ার ইঙ্গিত দেয়।
কিন্তু শ্রীলঙ্কার ধীরগতির বোলাররা দ্রুত গতি বদলায়। দুশান হেমান্তা তিনটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন, যা অস্ট্রেলিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে, ম্যাথেশা পাথিরানা মাত্র চারটি ডেলিভারির পর বাম পায়ের ক্যালফে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছেড়ে যান, ফলে বোলিং দায়িত্ব বাকি আক্রমণের ওপর পড়ে।
বাকি বোলাররা তৎপরতা দেখিয়ে শ্রীলঙ্কার দৌড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখে। দুশান হেমান্তা, মাহেশ থিকশানা, দুনিথ ওয়েলালাজে এবং কামিন্দু মেন্ডিস প্রত্যেকেই কার্যকর পারফরম্যান্স দেখায়। দুশমন্তা চামীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং দিয়ে স্কোরিং রেট কমিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৮০ রানে সীমাবদ্ধ রাখতে সহায়তা করেন।
মার্শের প্রেস কনফারেন্সে তিনি উল্লেখ করেন, “আজকের ম্যাচে মূলত এক্সিকিউশনই সমস্যার মূল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন‑আপ শক্তিশালী, স্পিনের মোকাবিলায়ও তারা সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত, তবে শেষ পর্যায়ে যথাযথ এক্সিকিউশন না হওয়ায় আমরা প্রত্যাশিত স্কোরে পৌঁছাতে পারিনি।” তিনি শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “শ্রীলঙ্কা সুন্দরভাবে ফিরে এসেছে এবং আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছে।”
মার্শ আরও জানান, “আমরা শুরুর দিকে কিছুটা কম স্কোর করেছিলাম, তবে দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা জয় নিশ্চিত করতে পারব বলে বিশ্বাস ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা স্পিনের মুখোমুখি হয়ে যথাযথ এক্সিকিউশন না করতে পেরেছি, যা আমাদের জন্য বড় হতাশা।” তিনি দলের প্রতি কোনো দোষারোপ না করে, শুধুমাত্র ফলাফলে অস্বস্তি প্রকাশ করেন।
শ্রীলঙ্কার দৌড়ের সূচনা তীব্র ছিল। কুসাল পেরেরা শুরুর দিকে আউট হয়ে যায়, তবে নিসান্কা ও কুসাল মেন্ডিস দ্রুত স্থিতিশীলতা নিয়ে দলকে সঠিক পথে রাখে। উভয় খেলোয়াড়ই রক্ষণশীলভাবে রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কার বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ দিক এবং অস্ট্রেলিয়ার এক্সিকিউশন ঘাটতির ফলে ম্যাচটি একটি নাটকীয় মোড় নেয়। অস্ট্রেলিয়ার ১০৪ রান দ্রুত গড়ে তোলার পরেও শ্রীলঙ্কা ধারাবাহিকভাবে রেট কমিয়ে তাদের স্কোরকে ১৮০ রানে সীমাবদ্ধ রাখে।
মার্শের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টে অগ্রসর হওয়ার জন্য ব্যাটিং এক্সিকিউশন উন্নত করতে হবে, বিশেষ করে স্পিনের মোকাবিলায়। শ্রীলঙ্কা meanwhile, শীর্ষস্থানীয় বোলিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে অগ্রগতি বজায় রাখছে।
এই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়া শীঘ্রই টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়, যেখানে শ্রীলঙ্কা পরবর্তী ম্যাচে তাদের জয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।



