ইউক্রেনের জাতীয় গার্ডের ৩৫ বছর বয়সী এক সৈনিক সাম্প্রতিক সময়ে তার স্ত্রীকে প্ররোচিত করে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে স্পার্ম সংগ্রহ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করিয়েছেন। এই সেবা সরকারীভাবে বিনামূল্যে প্রদান করা হয়, যাতে যুদ্ধের সময় আহত বা নিহত সৈন্যদের ভবিষ্যৎ সন্তান উৎপাদনের সম্ভাবনা রক্ষা করা যায়।
সৈনিকের মতে, পূর্বের লাইন থেকে ৩০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও রাশিয়ান ড্রোনের আক্রমণ ঝুঁকি থাকে, যা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তিনি ও তার স্ত্রীর জন্য এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা একটি নিরাপত্তা জাল হিসেবে কাজ করে।
প্রোগ্রামটি ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রিক আক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়ভাবে চালু হয়। প্রথমে কিছু বেসরকারি ফার্টিলিটি ক্লিনিক সৈন্য-সৈন্যীর জন্য স্পার্ম ও ডিম্বাণু সংরক্ষণ সেবা প্রদান করত, তবে কোনো সরকারি সহায়তা ছিল না।
২০২৩ সালে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট এই প্রক্রিয়াকে আইনগত ভিত্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে এবং রাষ্ট্রের তহবিল থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণকারী একজন সংসদ সদস্যের মতে, “সৈন্যরা আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করে, তবে তাদের নিজস্ব ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে। তাই আমরা তাদের জন্য এই সুযোগ তৈরি করেছি।”
প্রাথমিকভাবে গৃহীত বিধানগুলোতে বলা হয়েছিল যে, দাতা মৃত্যুর পর তার সংরক্ষিত নমুনা ধ্বংস করা হবে। এই শর্তটি প্রকাশের পর একাধিক যুদ্ধবিধবা ও তাদের পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি করে, কারণ তারা স্বামী বা স্বামীসঙ্গীর নমুনা ব্যবহার করে সন্তান গর্ভধারণের আশা করছিল। এক বিধবা এই বাধার মুখোমুখি হয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।
বিধান সংশোধনের পর এখন মৃত সৈন্যের নমুনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস হয় না; বরং স্বামী বা স্ত্রী তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে। এই পরিবর্তনটি সৈন্যদের পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা প্রদান করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সৈনিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, যুদ্ধের তীব্রতা ও অনিশ্চয়তা প্রজনন ক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারীভাবে বিনামূল্যে স্পার্ম ফ্রিজিং সেবা প্রদান করা কেবল সামরিক নীতি নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস ও পরিবেশগত ঝুঁকি পুরুষের সেমেনের গুণমান হ্রাস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই ধরনের প্রোগ্রাম যুদ্ধের পরিণতি কমাতে এবং জাতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক।
ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে এই সেবার পরিসর বাড়িয়ে নারীদের জন্যও ডিম্বাণু সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এভাবে যুদ্ধের প্রভাব থেকে সৃষ্ট প্রজনন সমস্যার সমাধানকে সমগ্র সমাজের দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইউক্রেনের এই উদ্যোগ সৈন্যদের জীবনের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে। যুদ্ধের অস্থিরতা ও মানবিক চ্যালেঞ্জের মুখে, সরকারী স্বাস্থ্য নীতি ও সামরিক নীতি একত্রে কাজ করে সমাজের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
আপনার পরিবার বা পরিচিতের মধ্যে যদি এমন কোনো পরিস্থিতি থাকে যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজনন সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকে, তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরামর্শ নেওয়া এবং উপলব্ধ ফ্রিজিং সেবার তথ্য সংগ্রহ করা উপকারী হতে পারে।



