নেটফ্লিক্স ২০২৪ ফেব্রুয়ারি ১৭ তারিখে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের জন্য ২০২৬ সালের মূল চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় স্থানীয় গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নতুন কন্টেন্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনকারী শিরোনামগুলো অন্তর্ভুক্ত। এই ঘোষণার মাধ্যমে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আঞ্চলিক উৎপাদন কৌশলকে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিরোনাম হিসেবে হৃৎকম্পন হাইয়ের তৃতীয় ও শেষ সিজন উল্লেখ করা হয়েছে, যা ২ মার্চ নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হবে। ১৯৯০‑এর জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজের নরম রিবুট হিসেবে এই নতুন সিজন সিডনি ক্যাম্পাসে স্থাপিত এবং আধুনিক তরুণদের জীবনের সঙ্গে পুরনো স্মৃতির সংযোগ ঘটায়। সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার সমালোচকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে এবং স্থানীয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
হৃৎকম্পন হাই শেষ সিজনে বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অফ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (AACTA) এর সম্মানজনক পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত। এই স্বীকৃতি সিরিজের গুণগত মান ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে তুলে ধরে।
শেষ সিজনে ফিরে আসা বড় কাস্টে অয়েশা মাদন, জেমস মাজোস, ক্লোয়ে হেডেন, আশার ইয়াসবিনসেক, থমাস ওয়েদারাল, উইল ম্যাকডোনাল্ড, জেমা চুয়া-ট্রান, ব্রিন চ্যাপম্যান পারিশ, শেরি-লি ওয়াটসন, ব্রোডি টাউনসেন্ড, চিকা ইকোগুয়ে, কার্তান্যা মায়ার্ড, আকি মুনরো, ইওয়ানে সাউলা, বেন টারল্যান্ড, উইলিয়াম ম্যাককেনা এবং নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ধন র্যাচেল হাউস অন্তর্ভুক্ত। এই বৈচিত্র্যময় দলটি অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ডীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সমন্বয়ে গঠিত, যা সিরিজের বাস্তবিকতা ও আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলবে।
নেটফ্লিক্সের তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম হল সময়কালের নাটক “মাই ব্রিলিয়ান্ট ক্যারিয়ার”। যদিও মুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সিরিজটি ১৯০১ সালের গ্রামীণ অস্ট্রেলিয়ায় স্থাপিত এবং মাইলস ফ্র্যাঙ্কলিনের একই নামের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ছয়টি পর্বের এই ধারাবাহিকটি একজন তরুণ লেখকীর স্বপ্ন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।
সিরিজের মূল চরিত্র সিবিল্লা একটি আধুনিক মানসিকতা সম্পন্ন তরুণী, যার একমাত্র লক্ষ্য হল লেখক হওয়া, যদিও তার পরিবার তাকে বিয়ের পথে ঠেলে দেয়। তিনি ১৯০১ সালের সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গল্পটি সিবিল্লার প্রেমের জটিলতা ও ক্যারিয়ার গঠনের দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করে, যেখানে তিনি প্রেম ও স্বাধীনতার মধ্যে একটি কঠিন পছন্দের মুখোমুখি হয়।
“মাই ব্রিলিয়ান্ট ক্যারিয়ার” অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সাংস্কৃতিক রত্ন হিসেবে বিবেচিত, এবং প্রথমে ১৯৭৯ সালে গিলিয়ান আর্মস্ট্রং পরিচালিত চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। ঐ চলচ্চিত্রে জুডি ডেভিস, স্যাম নিল এবং ওয়েন্ডি হিউজের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল এবং অস্ট্রেলিয়ান সিনেমার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হয়। নেটফ্লিক্সের নতুন ধারাবাহিকটি এই ক্লাসিক উপন্যাসকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করবে।
এই নতুন কন্টেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সৃষ্টিকর্তা ও শিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃশ্যমানতা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নেটফ্লিক্সের এই উদ্যোগটি আঞ্চলিক গল্পকে বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত, যা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ কন্টেন্টের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলছে।



