ফ্রেডেরিক উইসম্যান, ৯৬ বছর বয়সী ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাতা, সোমবার মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছেন জিপ্পোরাহ ফিল্মস, যা ১৯৭০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালের গভর্নর্স অ্যাওয়ার্ডসে তিনি সম্মানজনক অস্কার পেয়েছিলেন। উইসম্যানের কাজের মাধ্যমে জনসাধারণের প্রতিষ্ঠানগুলোতে লুকিয়ে থাকা নৈতিক সমস্যাগুলো উন্মোচিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আইন অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা উইসম্যান, চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোনিবেশ করে ধারাবাহিকভাবে প্রায় প্রতি বছর একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন। তার প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ “টিটিকাট ফোলিস” (১৯৬৭) ব্রিজওয়াটার স্টেট হাসপাতাল ফর দ্য ক্রিমিনালি ইনসেন-এ ঘটিত নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে। ম্যাসাচুসেটসের সরকারি সংস্থা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং দুই দশক পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি বিতরণ থেকে সরিয়ে দেয়।
উইসম্যানের চলচ্চিত্রশৈলীকে “সিনেমা ভেরিটে” বলা হয়, যেখানে কোনো বর্ণনা, সঙ্গীত বা সাক্ষাৎকারের ব্যবহার নেই। তিনি ক্যামেরা সরাসরি হাসপাতাল, স্কুল, আবাসিক প্রকল্পের মতো প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করে দৈনন্দিন রুটিনকে নীরবভাবে রেকর্ড করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটিয়ে ক্যামেরাকে পরিবেশের অংশ করে তোলেন, যাতে উপস্থিত ব্যক্তিরা ক্যামেরার উপস্থিতি উপেক্ষা করে। এভাবে তিনি দর্শকের কাছে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বাস্তবতা উপস্থাপন করেন।
তার কাজের মূল লক্ষ্য ছিল জনসেবা সংস্থার গোপন অমানবিক দিকগুলোকে প্রকাশ করা, যা মূলত মানুষের কল্যাণের জন্য গড়ে তোলা হয়। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গৃহবসতি প্রকল্প ইত্যাদির দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সামাজিক অবিচারকে নীরবভাবে তুলে ধরেছেন। সমসাময়িক সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাকে “নীরব অটর” এবং থিওডোর ড্রেসারের ধারায় সামাজিক মাকরেকার হিসেবে প্রশংসা করেন।
বছরের পর বছর ধরে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে চিত্রায়িত করেছেন। ২০২৩ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তার পঞ্চাশতম ডকুমেন্টারি “Menus Plaisirs — Les Troisgros” প্রদর্শিত হয়। পূর্বের



