নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সোমবার পুলিশ অনুরোধে তিনজনের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে, যাতে হাতিয়ায় এক নারীর ধর্ষণ অভিযোগের শারীরিক প্রমাণ পরীক্ষা করা যায়। অভিযোগকারী নারী শনিবার দু’টায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, পরে বিকেল পাঁচটায় জরুরি বিভাগে গিয়ে জানিয়ে দেন যে গত রাত প্রায় একটায় নিজের এলাকায় তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি তার বাড়িতে ঢুকে, স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেছে।
হাতিয়া থানা থেকে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, তবে লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ জিডি অনুসারে রিকুইজিশন পাঠিয়ে হাসপাতালকে মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে নির্দেশ দেয়। তদনুযায়ী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, রিকুইজিশন ছাড়া কোনো ভুক্তভোগীর আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।
হাতিয়া থানা-র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম উল্লেখ করেন, লিখিত অভিযোগ না এলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়; অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারভাইজার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী সময় নিচ্ছেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ভিতরে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে নাম উল্লেখিত তিনজন সন্দেহভাজন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, একই রাতে এলাকায় মারামারির ফলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সেই ঘটনার প্রমাণও উপস্থাপন করেছেন। এই বিবরণে সন্দেহভাজন ও ভুক্তভোগীর বিবরণে পার্থক্য স্পষ্ট, ফলে বিষয়টি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।
জেলা বিএনপি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা প্রচার’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করে। তারা উল্লেখ করে, একটি সমসাময়িক ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা করে ধর্ষণ মামলায় রূপান্তর করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ডের কাজ হবে শারীরিক পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় স্যাম্পল সংগ্রহ এবং ফলাফল রেকর্ড করা, যা পরে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। পুলিশ রিকুইজিশন এবং জিডি উভয়ই আদালতে দাখিলের জন্য প্রস্তুত করা হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।
এই সময়ে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে, এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কোনো ধরা পড়া বা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে।
অধিক তথ্য না থাকায়, বর্তমান পর্যায়ে শুধুমাত্র মেডিকেল পরীক্ষা এবং পুলিশ তদন্তই বিষয়টির মূল ভিত্তি। ভবিষ্যতে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা মামলার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে।



