বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে শপথ নেবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহের অবস্থা অব্যাহত। শপথের সময়সূচি সকাল ১০টায় নির্ধারিত, তবে শপথ না করলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও সংশোধন প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় আজকের শপথের জন্য দুইটি পৃথক অনুষ্ঠান প্রস্তুত করেছে। প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ, তারপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা। জামায়াত-এ-ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও একই দিনে শপথ নেবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই মাসে জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলস্বরূপ গঠিত একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদের সদস্যরা প্রথমে সংসদ সদস্যের পদে শপথ নেবে, তারপর পরিষদের সদস্য হিসেবে পুনরায় শপথ নেবে।
বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়, তবে পরিষদের গঠন স্থগিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, শপথ না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগে প্রাথমিক বাধা আসবে এবং নতুন রাজনৈতিক সংকটের সম্ভাবনা দেখা দেবে।
বিএনপি দলটি বর্তমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য কোনো শপথের ধারা নেই বলে দাবি করে। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শুধুমাত্র সংসদ সদস্যের শপথের উল্লেখ আছে, আর পরিষদের সদস্যের শপথের কোনো বিধান নেই। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশার (সিইসি) এর কাছে এমন শপথ নেওয়ার অধিকার নেই বলে দলটি যুক্তি দিয়েছে।
গুলশানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বাচন কমিশনের সংবিধানিক দায়িত্ব কেবল জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা, এবং শপথের বিষয়টি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপলব্ধ বা অক্ষম হলে, অথবা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে, সিইসি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে পারেন। এই শপথের অধিকার সংবিধানিকভাবে সিইসির কাছে রয়েছে এবং এটি আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শপথের পরিসর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যের শপথ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি সংবিধানের কোনো ধারায় উল্লেখ না থাকায়, সিইসির এখতিয়ারেও তা অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিএনপি এই অবস্থানকে সংবিধানিক বৈধতা হিসেবে উপস্থাপন করে এবং শপথ না নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই বলে দাবি করে। দলটি বলছে, শপথ না করলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও সংশোধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও কাজের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের সময়সূচি নির্ধারিত হওয়ায়, আজকের শপথের ফলাফল পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শপথ না হলে, সংশোধনী প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় শপথের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শপথের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সংবিধানিক বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, এবং শপথের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, যদি বিএনপি থেকে শপথ না নেওয়া হয়, তবে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং সরকারকে বিকল্প উপায় খুঁজতে হতে পারে। এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সর্বশেষে, আজকের শপথের ফলাফল দেশের সংবিধানিক সংস্কার পরিকল্পনার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সম্মতি এই প্রক্রিয়ার মসৃণতা নিশ্চিত করবে।



