সিরিয়ার উত্তরে রোজ শিবিরে প্রায় সাত বছর ধরে আটক থাকা ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশুরা সোমবার মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে রওনা হয়, তবে একই দিনে “প্রযুক্তিগত কারণ” উল্লেখ করে শিবিরে ফিরে আসে। অধিকাংশকে আইএস (ইসলামিক স্টেট) যোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রোজ শিবিরটি ২০১৯ সালে আইএসের শেষ গৃহভূমি হারানোর পর থেকে গৃহহীন নারী ও শিশুরা, মোট ৪০টি ভিন্ন জাতীয়তার প্রায় ২,০০০ জনের আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিবিরের বাসিন্দারা মূলত যুদ্ধের শিকার, এবং তাদের অধিকাংশের পুনর্বাসন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়।
সোমবারের সকালেই অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের এই দলকে শিবিরের কর্তৃপক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করা হয়, যাঁরা সিরিয়ায় ফিরে এসে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। হস্তান্তরের পর, তারা সামরিক সঙ্গীর তত্ত্বাবধানে মিনি বাসে চড়ে দমাস্কের দিকে রওনা হয়।
তবে রওনা হওয়ার পরপরই শিবিরের কর্মকর্তারা জানায় যে, অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি সমন্বয়ে ব্যর্থতার ফলে দলটি শিবিরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত বাধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে যে পারস্পরিক সমঝোতার অভাব মূল কারণ।
মিনিবাসে চড়ে দমাস্কে পৌঁছানোর পর, দলের সদস্যরা বেইরুটে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহের পরিকল্পনা করছিল। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া জানায়, তারা বেইরুটে পৌঁছে যথাযথ নথি পেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার আশা করছিল। তবে শিবিরে ফিরে আসার পর এই পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান সরকার দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার শিবির থেকে নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বলেছে যে, যারা অপরাধে দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছে যে, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা নাগরিকদের যদি দূতাবাসে উপস্থিতি থাকে, তবে তাদের পাসপোর্ট ইস্যু করা বাধ্যতামূলক।
এই দ্বন্দ্বের মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। সরকার দাবি করে যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে পুনরায় সমন্বয় করা হবে।
রোজ শিবিরে বসবাসকারী অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের শামিমা বেগুমের নাম উল্লেখযোগ্য, যাকে ২০১৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তা কারণে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বেগুমের মতো কেসগুলো শিবিরের বাসিন্দাদের পুনর্বাসন নীতির জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক চাপকে উন্মোচিত করে।
শিবিরের পরিচালক হাকমিয়েহ ইব্রাহিম শিবিরের অবস্থান থেকে সকল দেশের সরকারকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, শিবিরে থাকা নারীরা এবং শিশুরা কেবল মানবিক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবী করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমানে রোজ শিবিরে ৪০টি ভিন্ন জাতীয়তার প্রায় ২,০০০ জনের অবস্থান বজায় রয়েছে, এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কূটনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং মানবিক নীতির সমন্বয় প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার এই ৩৪ জনের পুনরায় শিবিরে ফিরে আসা বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনর্বাসন নীতির পুনঃপর্যালোচনা এবং সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



