18 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইমরান খান-এর পুত্ররা স্বাস্থ্যের উদ্বেগে ভিসা আবেদন করে বাবা-কে দেখার অনুমতি চায়

ইমরান খান-এর পুত্ররা স্বাস্থ্যের উদ্বেগে ভিসা আবেদন করে বাবা-কে দেখার অনুমতি চায়

ইমরান খান-এর দুই পুত্র, কাসিম (২৬) ও সুলেইমান (২৯), লন্ডনে বসবাসের পরও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা দু’জনই ভিসা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন, যাতে দুই বছরের বেশি সময়ের বিচ্ছিন্নতার পর বাবা-কে ব্যক্তিগতভাবে দেখতে পারেন। তাদের দাবি যে, বাবার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে এবং চিকিৎসা সেবা যথাযথভাবে না পাওয়ার কারণে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কাসিম ও সুলেইমান গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, যা সেপ্টেম্বরের পরের প্রথম সংযোগ। কথোপকথনে বাবা স্বাস্থ্যের বিষয়ে সাধারণত কথা বলতেন না, তবে এইবার তিনি চোখের সমস্যার জন্য কয়েক মাস চিকিৎসা না পেয়ার অভিযোগ করেন। পুত্ররা জানান, দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা তাদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং বাবার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধা ও ব্যক্তিগত ডাক্তারের সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের মতে, বাবার স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তিনি কোনো অবহেলার শিকার হচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্টও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চেয়েছে। তবে পুত্রদের দৃষ্টিতে, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় এবং বাবাকে একটি উন্নত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা উচিত বলে তারা জোর দেন।

ইমরান খান, ৭৩ বছর বয়সী, আগস্ট ২০২৩ থেকে বিভিন্ন অপরাধের দোষে কারাবন্দি। তিনি ও তার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইসাফ (পিটিএ) দল এই দোষারোপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন। ২০২২ সালে নো-কনফিডেন্স ভোটে তার সরকার পতনের পর থেকে তিনি বহু মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন; কিছু দোষারোপ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, তবে আপিল প্রক্রিয়া চলমান। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছেন।

কাসিম ও সুলেইমানের মা, ব্রিটিশ সামাজিক কর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জেমিমা গোল্ডস্মিথ, ইমরানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর পুত্রদের ব্রিটেনে বড় করা হয়েছে। তারা শেষবার ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে বাবার সঙ্গে দেখা করেছিল, যখন ইমরান খান একটি গুলিবিদ্ধের পর বেঁচে ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে কোনো সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।

পুত্ররা জানিয়েছেন, তারা গত মাসে ভিসার জন্য আবেদন করে এখনো কোনো উত্তর পাননি। তাদের মতে, সরকার ভিসা অনুমোদনে দেরি করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্বেগ থাকতে পারে, যাতে তারা বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার অবস্থার বাস্তবতা প্রকাশ করতে না পারে। এই পরিস্থিতি ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও তার পারিবারিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

অধিকন্তু, পাকিস্তানের বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্থাগুলি ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনে চলার দাবি জানিয়েছে। সরকার বলছে, রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে চালানোই মূল লক্ষ্য। পুত্রদের ভিসা অনুরোধের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করেও, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনও আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও কারাবাসের বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। তার সমর্থকরা বাবার স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সরকারকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো দাবি করে যে, খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ না করা হলে তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

এই ঘটনায় ভবিষ্যতে কী ধাপ নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় এবং সরকারের ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্তের ওপর। পুত্রদের আবেদন যদি মঞ্জুর হয়, তবে তারা বাবার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে তার স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে প্রথম হাতের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। অন্যদিকে, যদি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইমরান খান-এর পুত্রদের ভিসা আবেদন এবং বাবার স্বাস্থ্যের উদ্বেগ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও মানবিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এই বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments