অ্যান্ড্রেসেন হরোইটজের পার্টনার গ্যাব্রিয়েল ভাসকেজ গত এক বছরে নিউইয়র্ক থেকে স্টকহোম পর্যন্ত নয়টি ফ্লাইট করে স্বিডেনের স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমে নজর দিয়েছেন। এই সফরগুলোতে তিনি লভেবল নামে একটি পোর্টফোলিও কোম্পানিকে ঘুরে দেখেছেন এবং একই সঙ্গে স্বিডেনের সম্ভাব্য ইউনিকর্নগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। একই সময়ে a16z ডেন্টিও নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ডেন্টাল টেক স্টার্ট‑আপে ২.৩ মিলিয়ন ডলারের প্রি‑সিড রাউন্ডের নেতৃত্ব দেন।
ডেন্টিও স্বিডেনের স্টকহোমে অবস্থিত এবং ডেন্টিস্টদের প্রশাসনিক কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করতে এআই ব্যবহার করে। কোম্পানির মূল লক্ষ্য হল ক্লিনিকের রোগী ব্যবস্থাপনা, বিলিং ও রেকর্ড সংরক্ষণকে সহজ করা, যাতে ডেন্টিস্টরা ক্লিনিক্যাল কাজের উপর বেশি সময় দিতে পারেন। এই বিনিয়োগটি a16z-এর সাম্প্রতিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিলের অংশ, যদিও প্রি‑সিড পর্যায়ের চেকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে ছোট।
স্টকহোমকে a16z-এর জন্য স্বাভাবিক গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তারা স্কাইপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিকলাস জেনস্ট্রোমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পেয়েছিলেন। স্কাইপের সাফল্য পরবর্তী বছরগুলোতে স্বিডেনের টেক দৃশ্যকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে তুলে ধরেছে এবং বহু দ্রুতবর্ধনশীল স্টার্ট‑আপের জন্ম দিয়েছে।
a16z এই অঞ্চলের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে ট্র্যাক করতে স্থানীয় অফিস না থাকলেও বিশেষ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ভাসকেজ উল্লেখ করেছেন যে তারা নির্দিষ্ট বাজারের গভীর বিশ্লেষণ করে উদীয়মান প্রযুক্তি ও ব্যবসা মডেলগুলোকে শনাক্ত করে। স্বিডেনের ক্ষেত্রে, তারা স্টকহোম স্কুল অফ ইকোনমিক্সের ইনকিউবেটর SSE Labs এবং কিংস্ লন্ডন টেকনোলজি (KTH) এর ইনোভেশন লঞ্চ প্রোগ্রামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
ডেন্টিও SSE Labs-এর আলুমনি, যা ক্লারনা, লিগোরা এবং ভয়ি সহ বেশ কয়েকটি সফল স্বিডেনীয় কোম্পানিকে জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা ত্রয়ী এলিয়াস আফ্রাসিয়াবি, অ্যান্টন লি এবং লুকাস শ্যোগ্রেন একই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহপাঠী, পরে স্টকহোম স্কুল অফ ইকোনমিক্স এবং রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (KTH) এ একসাথে পড়াশোনা করেন। তাদের পুনর্মিলনই ডেন্টিও গড়ার মূল প্রেরণা হয়ে ওঠে।
অ্যান্টন লির মা, যিনি একজন ডেন্টিস্ট, প্রায়শই ক্লিনিকের প্রশাসনিক কাজের ভারে ক্লিনিক্যাল সেবার মান কমে যাওয়ার কথা বলতেন। এই বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে ত্রয়ী সিদ্ধান্ত নেন যে বড় ভাষা মডেল (LLM) ব্যবহার করে ডেন্টাল প্র্যাকটিসের ব্যাকএন্ড কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। ফলে তারা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে যা রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ইনভয়েসিং এবং ডেটা এন্ট্রি সহজ করে।
a16z-এর এই বিনিয়োগ স্বিডেনের টেক ইকোসিস্টেমে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর সংকেত দেয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসি ফার্মগুলো সাধারণত স্থানীয় উপস্থিতি ছাড়া বিনিয়োগে সতর্ক থাকে, তবে স্টকহোমের মতো উচ্চ উদ্ভাবনী শহরে তারা সক্রিয়ভাবে সুযোগ খুঁজছে। এই প্রবণতা অন্যান্য ইউরোপীয় রাজধানীর জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত ইনকিউবেটর সক্রিয়।
ডেন্টিওর প্রি‑সিড রাউন্ডে a16z-এর অংশগ্রহণ স্টার্ট‑আপের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তহবিল সরবরাহ করে। তহবিলের মূল ব্যবহার হবে পণ্য উন্নয়ন, ডেটা সিকিউরিটি ও ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা। একই সঙ্গে, a16z-এর নেটওয়ার্ক ডেন্টিওকে সম্ভাব্য পার্টনার ও গ্রাহক সংযোগে সহায়তা করবে, যা দ্রুত বাজারে প্রবেশের গতি বাড়াবে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ডেন্টাল টেক সেক্টরে এআই-চালিত সমাধানগুলোর চাহিদা আগামী পাঁচ বছরে ত্রিগুণ হতে পারে। রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা, রেগুলেটরি সম্মতি এবং ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান, তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নতি এই বাধাগুলোকে কমাতে পারে।
সারসংক্ষেপে, a16z-এর স্টকহোমে ঘন ঘন ভ্রমণ এবং ডেন্টিওতে বিনিয়োগ স্বিডেনের উদ্ভাবনী স্টার্ট‑আপ দৃশ্যকে আন্তর্জাতিক মূলধনের দৃষ্টিতে তুলে ধরছে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বেশি ইউরোপীয় টেক কোম্পানিকে গ্লোবাল স্কেলে স্কেল করতে সহায়তা করবে, তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও ডেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য দৃঢ় কৌশল প্রয়োজন।
প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা সংযোগের এই নতুন দিগন্তে a16z-এর সক্রিয় ভূমিকা স্বিডেনের স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমকে আরও গতিশীল করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।



