মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন, স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। জাহাজটি ওমানের উপকূলের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে দেখা গেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রতি বাড়ছে। একই সময়ে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনার জন্য মিলিত হতে যাচ্ছেন।
অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন একটি ন্যুক্লিয়ার‑শক্তিসম্পন্ন নিমিটজ‑ক্লাস ক্যারিয়ার, যার সঙ্গে তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুক্ত রয়েছে। জাহাজে মোট ৯০টি বিমান, যার মধ্যে এফ‑৩৫ ফাইটার অন্তর্ভুক্ত, এবং ৫,৬৮০ জন ক্রু রয়েছে। জানুয়ারির শেষের দিকে গাল্ফ অঞ্চলে পাঠানো হলেও, স্যাটেলাইটের সীমিত কভারেজের কারণে তা আগে ধরা পড়েনি। ইউরোপীয় সেনটিনেল‑২ স্যাটেলাইটের সর্বশেষ চিত্রে জাহাজটি আরব সাগরে, ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত দেখা গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিশাল নৌবাহিনীর সম্পদ, ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই জাহাজটি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে, যা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গঠনকে ঘিরে পর্যবেক্ষণ বাড়ছে। স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে মোট বারোটি জাহাজের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে নিমিটজ‑ক্লাস ক্যারিয়ার, তিনটি আর্লে‑বার্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার, দুইটি দীর্ঘ‑পরিসরের মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি বিশেষায়িত যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত। এই গঠনটি ইরানের সামরিক প্রোগ্রাম এবং সাম্প্রতিক প্রতিবাদ দমনকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে মিলিত হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনায় অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য শিথিলতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিষয়গুলোও আলোচনার তালিকায় যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, দুই দেশের মধ্যে জটিলতা বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি সুইজারল্যান্ডে আলোচনা সফল হয়, তবে তা অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে সামরিক গঠন অব্যাহত থাকলে তা বিপরীত ফলও বয়ে আনতে পারে।” এই মন্তব্যটি বর্তমান পরিস্থিতির দ্বিমুখী প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে, অ্যাব্রাহাম লিঙ্কনের অবস্থান ওমানের উপকূলের নিকটবর্তী হওয়ায় ইরানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রুটে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, গেরাল্ড আর ফোর্ডের সম্ভাব্য আগমন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কূটনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে।
পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, দু’দেশের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে আলোচনার ফলাফল ভিত্তিক পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। যদি পারমাণবিক বিষয়ে অগ্রগতি হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে। অন্যদিকে, সামরিক গঠন অব্যাহত থাকলে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার জাহাজের ইরানের নিকটবর্তী অবস্থান, গেরাল্ড আর ফোর্ডের সম্ভাব্য আগমন এবং সুইজারল্যান্ডে কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা, ইরান‑মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান জটিলতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা উভয়ই সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



