বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিলে, তার বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত শর্তগুলো বাংলাদেশ সরকারের “দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট” অনুযায়ী প্রকাশিত হয়েছে। এই নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলে মাসিক পারিশ্রমিক, বাসা ভাড়া, ভ্রমণ ও চিকিৎসা সহ নানা সুবিধা নির্ধারিত।
অ্যাক্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মাসে এক লাখ পনেরো হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এছাড়াও, সরকার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বাসা ভাড়ার ভাতা প্রদান করা হবে, যা সরকারি বাসভবন না থাকলেও প্রযোজ্য।
বিনোদন ও সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা সমস্ত খরচকে সরকার ভাতা হিসেবে স্বীকার করবে। ফলে, প্রধানমন্ত্রী অফিসে উপস্থিতি বা সরকারি কাজের সময় যে কোনো বিনোদনমূলক ব্যয় সম্পূর্ণভাবে ফেরত পাবেন।
যাতায়াতের সবধরনের খরচ, অফিস থেকে বাসা ও বাসা থেকে অফিসে যাত্রা সহ, রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বহন করা হবে। এতে গাড়ি, বিমান, ট্রেন, স্টিমার বা জাহাজের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত, তবে দূরত্ব সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
পরিবারের নির্দিষ্ট ব্যয়ও ভাতা হিসেবে গণ্য হবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য ভ্রমণ, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা সরকারী ভাতা থেকে সরবরাহ করা হবে, যা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যয় থেকে আলাদা।
গৃহস্থালি পণ্যের পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন, স্টিমার বা জাহাজের খরচও অনুমোদিত, শর্ত হল গন্তব্যের দূরত্ব সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে হতে হবে। এই ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কাজের গতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য সরকারী বাসভবন সরবরাহ করা হবে, যার সজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সকল খরচ রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকবে। বাসভবনের নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সেবা সম্পূর্ণভাবে সরকারই পরিচালনা করবে।
যদি তিনি নিজের বাড়িতে থাকতে চান, তবুও এক লাখ টাকা ভাড়া ভাতা পাবেন। এছাড়া, ব্যক্তিগত বাসার সজ্জা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও সরকার বহন করবে, ফলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ব্যবহার করলেও কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না।
সরকারি বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবার খরচও রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে সরবরাহ করা হবে। নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ ও তাদের বেতনও সরকারী বাজেট থেকে প্রদান করা হবে।
বিদেশে কোনো সরকারি কাজের জন্য ভ্রমণ করলে দৈনিক ভাতা হিসেবে তিন হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া, বিমান ভ্রমণের জন্য ২৫ লাখ টাকার বীমা কভারেজ এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল হিসেবে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা ব্যাপক; প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যেকোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার থাকবে। একই সুবিধা তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষক সরকারী ব্যয়ের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চ ভাতা ও সুবিধা জনসাধারণের কাছে কিভাবে উপস্থাপিত হবে তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার এই সব ব্যবস্থা দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকরী কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দিয়েছে।
এই বিধানগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী পদে আসা পর থেকে এই সুবিধা ব্যবহারের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা ভবিষ্যতে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে, এবং সরকারী নীতি নির্ধারণে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে।



