বের্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডাস্ট’ শিরোনামের ছবি প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। অ্যানকে ব্লন্ডে পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য অঞ্জেলো টিজসেন্স রচনা করেছেন এবং মোট সময়কাল প্রায় দুই ঘন্টা। প্রধান চরিত্রে আরিয়েহ ওর্থাল্টার গিয়ার্ট এবং জান হ্যামেনেকার লুকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন; তাছাড়া থিবোড ডুমস, অ্যান্থনি ওয়েলশ, জান্নে ডেসমেট এবং আলডোনা জাঙ্কোস্কা সহ অন্যান্য অভিনেতাও ছবিতে উপস্থিত।
গল্পটি ১৯৯০-এর শেষের দিকে, প্রযুক্তি বুমের শীর্ষে, ফ্লেমিশ ব্যবসায়িক অংশীদার দুজনের ওপর কেন্দ্রীভূত। গিয়ার্ট ও লুক একটি স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার স্টার্ট‑আপ চালু করে, যা মূলত বন্ধু, পরিবার এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে গড়ে তোলা হয়। তবে পুলিশ তাদের ব্যবসা তদন্তে নামলে, প্রকল্পটি একটি প্রতারণা হিসেবে প্রকাশ পায়, যা দুজনকে নৈতিক ও আর্থিক সংকটে ফেলে।
চিত্রনাট্যটি দুজনের উঁচু সামাজিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ আতঙ্কের বৈপরীত্যকে তুলে ধরে। গিয়ার্ট ও লুক প্রথমবার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাদের পণ্য ইংরেজিতে উপস্থাপন করেন, যেখানে শোনার মানুষদের প্রশংসা পায়। তবে মঞ্চের পর লুকের শারীরিক অসুস্থতা—একটি নির্বাহী টয়লেটের ইউরিনাল পাশে বমি করা—তাদের ভেতরের অশান্তি প্রকাশ করে।
চলচ্চিত্রের শৈলীটি সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশকে প্রতিফলিত করে। স্টেইন ভেহরোভেন ও ইয়া ম্রোচকোস্কা পরিচালিত প্রোডাকশন ডিজাইনটি সমৃদ্ধ বুর্জোয়া বাড়ি, কিটশি সজ্জা, বেনামী অফিস এবং শীতল ভিলা দিয়ে গঠিত, যা সেই যুগের ভোগবিলাসের চিত্র তুলে ধরে। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো গল্পের নৈতিক প্রশ্নকে দৃশ্যমানভাবে সমর্থন করে।
চিত্রের শুরুতে ডাচ স্যাটায়ারিস্ট মাল্টাটুলি’র একটি উক্তি—”কিছুই সম্পূর্ণ সত্য নয়, এমনকি তা‑ও নয়”—উল্লেখ করা হয়েছে, যা দর্শকের কাছে চরিত্রের নৈতিক অবক্ষয়ের পূর্বাভাস দেয়। গিয়ার্ট ও লুকের জীবনযাত্রা, উঁচু সামাজিক মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে, তাদের পতনের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়।
‘ডাস্ট’ বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির উত্থানের সময়ে প্রকাশিত হওয়ায় তার বিষয়বস্তু অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিকতা পায়। চলচ্চিত্রটি দেখায় কীভাবে লোভ ও স্বার্থপরতা মানুষের চরিত্রকে ক্ষয় করতে পারে, যদিও গতি কিছুটা ধীর এবং ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় গল্পের তীব্রতা হ্রাস পায়।
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে, যদিও চলচ্চিত্রের নৈতিক বার্তা স্পষ্ট, তবে তার ধীর গতি দর্শকের মনোযোগকে মাঝপথে হারাতে পারে। তবুও, প্রোডাকশন ডিজাইনের সূক্ষ্মতা এবং সময়ের সামাজিক চিত্রায়নকে প্রশংসা করা হয়েছে।
‘ডাস্ট’ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তি বুমের পটভূমিতে মানবিক দুর্বলতা ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে উন্মোচন করে, যা আজকের AI-চালিত বাজারের সঙ্গে তুলনীয়। চলচ্চিত্রটি দেখার পর দর্শকরা প্রযুক্তি ও ব্যবসার নৈতিক দিক নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হয়।
সামগ্রিকভাবে, ‘ডাস্ট’ একটি সময়ের প্রতিফলন এবং নৈতিক প্রশ্নের অনুসন্ধান, যদিও তার গতি কখনো কখনো ধীর মনে হতে পারে। প্রযুক্তি ও ব্যবসা নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য এই চলচ্চিত্রটি দেখার পরামর্শ দেওয়া যায়, যাতে তারা আধুনিক যুগের নৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারে।



