20 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বললেন, বাংলাদেশ আর নম্র বিদেশনীতি অনুসরণ করবে না

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বললেন, বাংলাদেশ আর নম্র বিদেশনীতি অনুসরণ করবে না

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আজ টেলিভিশনে তার বিদায় বক্তৃতা দিয়ে মঙ্গলবারের ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে স্পষ্ট করে জানালেন যে বাংলাদেশ আর ‘নম্র’ বিদেশনীতি অনুসরণ করবে না এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।

বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন যে তার সরকার দেশের বহিরাগত সংযোগের তিনটি মূল স্তম্ভ—সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং গৌরব—পুনরুদ্ধার করেছে। এই ভিত্তিগুলোকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা তাকে দেশের কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার মূল পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জোর দিয়ে বলেন যে বাংলাদেশ আর অন্য দেশের নির্দেশনা বা পরামর্শের ওপর নির্ভরশীল নয়; দেশের কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা এখন সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

এদিকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন, বিশেষ করে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগকে উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।

সমুদ্রসীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রপথ কেবল ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং গ্লোবাল অর্থনীতির প্রবেশদ্বার। এই কৌশলগত সম্পদকে ব্যবহার করে দেশের বাণিজ্যিক ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

অধিকন্তু, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশের মাধ্যমে অঞ্চলকে বৈশ্বিক উৎপাদন হাবের দিকে ধাবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন খাতের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও উল্লেখ করেন, যা বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সেবা মানকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমকে দ্রুততর করবে।

সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন; রোহিঙ্গা সংকট এখনও জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বছরের পর বছর কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না থাকায় এই সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।

ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রোহিঙ্গা বিষয়কে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে, যা পূর্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিস্তেজ ছিল। এই প্রচেষ্টার ফলে সমস্যার সমাধানের দিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সমর্থনও উল্লেখযোগ্য; জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে সফর করে টেকসই সমাধানের প্রতিশ্রুতি জানান। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের অনুরোধে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি বিশেষ সম্মেলন জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগকে পুনরায় কেন্দ্রীভূত করেছে।

বিদায় বক্তৃতার এই মূল বিষয়গুলো দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে। শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নতুন সরকার এই নীতিগুলোকে কীভাবে বাস্তবায়ন করবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments