ঢাকা, মঘবাজারের আল-ফালাহ অডিটোরিয়ামে সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত একটি সভায় বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান তার পার্লামেন্টীয় দলকে জনগণের পাশে দায়িত্বশীল বিরোধী হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নির্বাচিত পার্লামেন্টারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক দিশা নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চান তা স্পষ্ট করেন।
এই সমাবেশে জামায়াতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যেখানে আমীরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সরকারী নীতি ও জাতীয় স্বার্থের প্রতি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যদি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালায় তবে বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়া সরকারি সংস্থাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের বিরোধী দল হিসেবে তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সরকারী কাজকর্মে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র একতরফা নয়, বরং সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি হবে।
বৈধ সংস্থার কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি সরকারের সৎ উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন, সময়ের সাথে সাথে কিছু সরকারি সংস্থা কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলেছে; সঠিক নীতি ও মনোযোগের মাধ্যমে সেগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করা যায়।
গণতান্ত্রিক নীতি ও সংসদীয় স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি পার্লামেন্টে বিরোধী সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি সুস্থ সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার ও বিরোধী উভয়েরই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা উচিত, যা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দেখা যায়।
আইন শৃঙ্খলা, সামাজিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অবৈধ সিন্দুক ও অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করার আহ্বান জানান, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে।
জুলাই উত্থানের সময় নিহত ও আহতদের স্মরণে তিনি একটি সংবেদনশীল মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বলেন, জুলাইয়ের কারণগুলো ভুলে গেলে আবার অনুরূপ ঘটনা ঘটতে পারে। এই স্মরণীয় মুহূর্তটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে তিনি ১৯৪৭, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেন, যেখানে দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অদায়িত্বের ফলে বিভাজন ও সংঘাতের জন্ম নিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার ও বিরোধী উভয়েরই দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে, যাতে অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি না হয়।
শফিকুর রহমানের মতে, সমষ্টিগত সৎপ্রয়াসের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠিত কাঠামোকে আরও দৃঢ় করা সম্ভব। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক শক্তির আন্তরিকতা ও সহযোগিতা দেশের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।
বাছাইয়ের পর ভোটার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জামায়াতের প্রতিশ্রুতি পুনরায় নিশ্চিত করেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, তাদের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে অটল থাকবেন। তিনি বলেন, ভোটারদের অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
সেই সন্ধ্যায় তিনি নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পৃষ্ঠায় একটি পোস্টে নতুন সংসদীয় যুগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ এখন একটি নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ের সূচনা প্রত্যাশা করছে এবং তা কীভাবে গড়ে উঠবে তা দেখার জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।
অবশেষে, শফিকুর রহমান দেশের নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখন থেকে সংসদীয় কাজকর্মের নতুন অধ্যায় শুরু হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারকে আরও সুদৃঢ় করবে।



