ভ্যাটিকান সেন্ট পিটার বেসিলিকায় মসজিদে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রিয়েল‑টাইমে ৬০টি ভাষায় অনুবাদ সেবা চালু করেছে। এই প্রকল্পটি ভাষা সেবা প্রদানকারী ট্রান্সলেটেডের সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তবায়িত, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লিটার্জির শব্দগুলোকে একসাথে শোনানো ও লিখিত রূপে উপস্থাপন করা হবে।
বেসিলিকার আর্কপ্রিস্ট কার্ডিনাল মাউরো গ্যাম্বেট্টি এই উদ্যোগকে ক্যাথলিক চার্চের সার্বজনীন মিশনের একটি আধুনিক সরঞ্জাম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শতাব্দী ধরে সেন্ট পিটার বেসিলিকা বিভিন্ন জাতি ও ভাষার ভক্তদের স্বাগত জানায়; এখন প্রযুক্তির সহায়তায় লিটার্জির বার্তা আরও বিস্তৃত শ্রোতার কাছে পৌঁছাবে।
এই সেবা ব্যবহার করতে দর্শনার্থীরা বেসিলিকার প্রবেশদ্বারে স্থাপিত QR কোড স্ক্যান করতে হবে। স্ক্যানের পর একটি ওয়েব পেজ খুলবে, যেখানে ব্যবহারকারী রিয়েল‑টাইম অডিও ও টেক্সট অনুবাদ পেতে পারবেন। কোনো অতিরিক্ত অ্যাপ ডাউনলোডের প্রয়োজন নেই, ফলে সকল স্মার্টফোন ব্যবহারকারী সহজেই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই প্রকল্পটি ট্রান্সলেটেডের ২০২৪ সালে চালু করা লারা (Lara) নামের AI অনুবাদ টুলের উপর ভিত্তি করে। লারা ৫ লক্ষেরও বেশি নেটিভ স্পিকার‑প্রফেশনাল অনুবাদকদের ডেটা ব্যবহার করে ভাষার সূক্ষ্মতা ও প্রেক্ষাপটকে সঠিকভাবে ধরতে সক্ষম বলে কোম্পানি দাবি করে।
লারা টুলের মূল বৈশিষ্ট্য হল বড় পরিমাণের টেক্সট দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ এবং উচ্চ নির্ভুলতার সাথে বহু ভাষায় রিয়েল‑টাইম অনুবাদ প্রদান করা। এই প্রযুক্তি ভ্যাটিকানের লিটার্জি সেবার সঙ্গে একত্রিত হয়ে, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভক্তদের জন্য একধরনের ভাষা সেতু গড়ে তুলবে।
সেন্ট পিটার বেসিলিকায় এই সেবা চালু হওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে প্রতি সপ্তাহে হাজারো পর্যটক ও ধর্মীয় ভক্ত একত্রিত হন। বহু ভাষা জানার প্রয়োজন ছাড়াই এখন প্রত্যেকেই লিটার্জির মূল বার্তা বুঝতে পারবে, যা ধর্মীয় অভিজ্ঞতাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
ট্রান্সলেটেডের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, লারা টুলের উন্নয়নে নেটিভ স্পিকারদের অভিজ্ঞতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটিয়ে অনুবাদের গুণগত মান বাড়ানো হয়েছে। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করে।
ভ্যাটিকানের এই পদক্ষেপটি কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক যোগাযোগের নতুন মডেল উপস্থাপন করে। রিয়েল‑টাইম অনুবাদ সেবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক মিটিংয়ে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
কার্ডিনাল গ্যাম্বেট্টি উল্লেখ করেন, এই সেবা ভ্যাটিকানের শতবর্ষী যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি ভবিষ্যতে মানবিক সৃজনশীলতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সমন্বয়ে প্রযুক্তি কীভাবে সংহতি বাড়াতে পারে, তা নিয়ে আশাবাদী।
প্রকল্পের আরেকটি সুবিধা হল, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রেকর্ডেড লিটার্জি পরবর্তীতে পুনরায় শোনা বা পড়া সম্ভব হবে। ফলে যারা সরাসরি উপস্থিত হতে পারেন না, তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একই অভিজ্ঞতা পেতে পারবেন।
এই সেবার চালু হওয়া ভ্যাটিকানের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। পূর্বে ভ্যাটিকান বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগে অংশ নিয়েছে, যেমন অনলাইন পাপাল ডকুমেন্টের প্রকাশনা এবং সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি। রিয়েল‑টাইম অনুবাদ সেবা এই ধারাকে আরও বিস্তৃত করে।
সারসংক্ষেপে, ভ্যাটিকান ও ট্রান্সলেটেডের যৌথ উদ্যোগে রিয়েল‑টাইমে ৬০টি ভাষায় লিটার্জি অনুবাদ সেবা চালু হওয়া ধর্মীয় সমাবেশকে বহুভাষিকভাবে সহজলভ্য করেছে। প্রযুক্তি ও ধর্মের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে।



