জাতীয় নাগরিক দল (JNP) এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাংলামোটরের পার্টি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে যেসব প্রার্থী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে সংসদে আসেন, তাদের কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া উচিত নয়।
সম্মেলনটি JNP ডায়াস্পোরা এলায়েন্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আরব আমিরাত থেকে কারামুক্ত হয়ে দেশে ফিরে ২৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন। পাটওয়ারী এই সুযোগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের গঠনমূলক ত্রুটি নিয়ে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া একটি পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিং হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। আগে থেকেই নির্ধারিত হয়েছিল কোন দল কতটি আসন পাবে, ফলে ভোটারদের স্বেচ্ছা সিদ্ধান্তের কোনো প্রকৃত সুযোগ থাকে না।
পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের নির্বাচনে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব স্পষ্ট। বিশাল আর্থিক সম্পদধারী ব্যক্তিরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করে ভোট সংগ্রহ করেন, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকায় তাদের স্বার্থ রক্ষা করেন এবং পরে আবার ভোটের মাধ্যমে বৈধতা দাবি করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন, তাদেরকে আল্লাহর দোহাই লাগে—অনেক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজকে সংসদে নিয়ে এসেছেন।” এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এইসব ব্যক্তিকে মন্ত্রণালয় প্রদান করা উচিত নয়।
অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাধারণত মন্ত্রণালয় বণ্টনকে জোটের চুক্তি ও পার্টির পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নির্ধারণের দাবি করে। তবে পাটওয়ারীর মতে, যদি নির্বাচনের মৌলিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হয়, তবে মন্ত্রণালয় বরাদ্দের কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না।
সম্মেলনের শেষে পাটওয়ারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যেসব আসনে আমরা জয়ী হয়েছি, সেখানে প্রবাসীরা শাপলা কলি ও ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই সমর্থন আমাদের জন্য অমূল্য, তবে এর ফলে সৃষ্ট ঋণ আমরা শোধ করতে পারব না।”
প্রবাসীরা দেশের সংকটের সময় গণআন্দোলনে সহায়তা প্রদান, রেমিট্যান্স বন্ধ রেখে শাটডাউন কর্মসূচি পালন এবং ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে সহায়তা করেছেন। পাটওয়ারী এই অবদানের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণের ফলে নির্বাচনী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে শাপলা কলি ও ১১ দলীয় জোটের ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, এই সমর্থন ভবিষ্যতে পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় নাগরিক দল এখন এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় বরাদ্দের বিষয়ে পার্টির নীতি নির্ধারণে পাটওয়ারীর বক্তব্যকে মূলধারায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে অনুমান করা যায়।
পরবর্তী সময়ে পার্টি নেতৃত্বের সঙ্গে জোটের আলোচনায় এই দাবি অন্তর্ভুক্ত হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইনসভার সংশোধনী প্রস্তাবের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি এই ধরনের দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রভাব কমতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল এই মুহূর্তে পার্টির নীতি ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মন্ত্রণালয় বণ্টনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। পাটওয়ারীর এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং আসন্ন সংসদীয় সেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।



