20 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ভাষণে গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান ও দায়িত্বের সমাপ্তি

মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ভাষণে গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান ও দায়িত্বের সমাপ্তি

মহানগরীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকালে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ভাষণ শোনা যায়। তিনি ১ বছর অর্ধের বেশি সময়ে পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত হতে আহ্বান জানান।

ইউনূসের ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, দল, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিককে ন্যায়সঙ্গত, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে পরিবর্তনগুলো শুরু করেছে, সেগুলোকে ধারাবাহিক রাখতে জনগণের সমর্থন অপরিহার্য।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গৃহীত অভ্যুত্থানের পর, ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ শাসন চালিয়ে যাওয়ার পর, মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয়ী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তার তত্ত্বাবধানে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বড় জয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

নতুন মন্ত্রিসভা শপথের অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও উপস্থিত থাকবেন এবং তার দেড় বছরের দায়িত্বের সমাপ্তি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। তিনি শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে, নির্বাচনের সফলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন।

ইউনূসের মতে, গত অর্ধবছরে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, কল্যাণমূলক শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং ক্ষমতার সমালোচনা করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধারাবাহিকতা যেন কোনোভাবে থেমে না যায় এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া একই রকম স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত থাকবে। “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দল ইস্পাতের মতো দৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে এই ধারাকে রক্ষা করবে,” তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একত্রে একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হওয়া উচিত—এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট মতামত না দিয়ে, বর্তমান প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ইউনূসের বিদায় ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে সাফল্য অর্জন করেছে এবং যেখানে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে, সেই দায়িত্ব এখন জনগণের ওপর। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, অর্জিত অগ্রগতি রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে এবং গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনকে উৎসবমুখর করে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার ব্যবহার করতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদায় ভাষণের পর, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং শপথের মাধ্যমে সরকারী কাঠামো পুনর্গঠন হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নতুন সরকার গঠনের পর নীতি নির্ধারণে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে ইউনূসের আহ্বান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক নীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে।

সারসংক্ষেপে, মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ভাষণ দেশের রাজনৈতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করে। তিনি সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, সকলকে গণতন্ত্রের রক্ষায় একত্রিত হতে আহ্বান জানান। শীঘ্রই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার শপথ এবং নতুন সরকারের গঠন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments