স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যবস্থা গ্রহণের মূল লক্ষ্য হল শপথ অনুষ্ঠানের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এইবার শপথ গ্রহণের প্রধান স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা পূর্বে শুধুমাত্র বঙ্গভবনের দরবারে অনুষ্ঠিত হতো। প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানটি সংসদ ভবনের এই অংশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। শপথ গ্রহণের আগে, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সকালবেলায় নেওয়া হবে, আর মন্ত্রিগণ বিকেল চারটায় শপথ নেবে।
শপথ গ্রহণের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, আর সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় ১,২০০ অতিথি উপস্থিত থাকবেন, এবং শপথের ১৮ ঘণ্টা আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
পুলিশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়, পার্সোনাল গার্ড, এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কাজ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কে প্রধান নিরাপত্তা দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিদের যাতায়াতের সময় পুলিশ প্রোটেকশন, পিজিআর প্রোটেকশন, এবং এসএসএফ প্রোটেকশন একসাথে কাজ করবে। নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য জ্যামার (নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ) ব্যবহার করা হবে, যাতে অননুমোদিত যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতির জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা দলও প্রস্তুত থাকবে।
সিকিউরিটি ফোর্সের পাশাপাশি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এর মধ্যে পার্কিং এলাকা, প্রবেশদ্বার, এবং দর্শকদের জন্য নির্ধারিত পথগুলোতে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ দ্রুত সরবরাহ করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর, এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা কমাতে, নিরাপত্তা কর্মীরা রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। জরুরি সেবা ও চিকিৎসা দলকে সরাসরি শপথস্থলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থায় দ্রুত সহায়তা প্রদান করা যায়।
এই নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং পরিকল্পনা নতুন সরকারের শপথ গ্রহণকে মসৃণভাবে সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গতা নিশ্চিত করে, সরকার শপথ গ্রহণের সময় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বজায় রাখতে চায়।
শপথ গ্রহণের পর, নতুন সরকার গঠন ও নীতি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের প্রস্তুতি ভবিষ্যতে সরকারী অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা মানদণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।



