গত সপ্তাহে টটেনহ্যাম ও নটিংহাম ফরেস্টের প্রধান কোচ দুজনই ক্লাবের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। টটেনহ্যামের থমাস ফ্র্যাঙ্ক এবং নটিংহাম ফরেস্টের শিন ডাইচের পদত্যাগের খবর ফুটবল জগতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সিদ্ধান্তই ক্লাবের বর্তমান পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
থমাস ফ্র্যাঙ্কের শেষ ১৭টি প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করা সম্ভব হয়। একই সময়ে শিন ডাইচের শেষ দশটি লিগ গেমে মাত্র দুইটি জয় রেকর্ড করা যায়। এই ফলাফলগুলো ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দলকে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করে।
উভয় কোচই ওয়েস্ট হ্যামের সাম্প্রতিক উন্নতি লক্ষ্য করে, যেখানে নুনো এস্পিরিটো সান্তো দলকে ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট সংগ্রহে সাহায্য করছেন। রিলিগেশন ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবগুলো তাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন অনুভব করে।
প্রিমিয়ার লীগে এই সিজনে এখন পর্যন্ত আটজন কোচ তাদের দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে অল্প সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকা ইন্টারিম কোচদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিজনের শেষের দিকে অলিভার গ্লাসনারের চুক্তি শেষ হবে, আর মারকো সিলভা ও আন্দোনি ইরাওলা দুজনের চুক্তি ইতিমধ্যে শেষের দিকে।
গত মৌসুমে দশজন কোচই ক্লাব ছেড়ে গেছেন, ২০২৩-২৪ মৌসুমে নয়জন এবং ২০২২-২৩ মৌসুমে বিশজন কোচের পদত্যাগের রেকর্ড রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা প্রিমিয়ার লীগে ব্যবস্থাপক পরিবর্তনের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথম প্রিমিয়ার লীগ সিজন ১৯৯২-৯৩-এ মাত্র চারটি কোচের পরিবর্তন ঘটেছিল; যদি চেলসির ডেভ ওয়েবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তবে পাঁচটি পরিবর্তন হিসাব করা হয়। তখন কোচের গড় মেয়াদ প্রায় চার সিজন ছিল।
আজকের দিনে গড়ে কোচের মেয়াদ প্রায় এক সিজন ও অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এই হ্রাসের পেছনে ক্লাবের তাত্ক্ষণিক ফলাফল অর্জনের চাপ এবং ভক্তদের উচ্চ প্রত্যাশা প্রধান ভূমিকা পালন করে।
প্রতিযোগিতার এই অস্থিরতা এখন ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইংলিশ ফুটবল একসময় ইতালির বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা সংস্কৃতিকে হাস্যকর বলে সমালোচনা করলেও এখন ‘ফেরি’ ধারণা গ্রহণ করেছে, যেখানে কোচকে দলকে সিজনের শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে রাখা হয়।
ইগর তুডরের মতো কোচকে ইতালিয়ানরা “un traghettatore” বলে উল্লেখ করে, অর্থাৎ সিজন শেষ পর্যন্ত দলকে পরিচালনা করা এক ধরনের নৌকাচালক। এই ধারণা এখন ইংল্যান্ডেও প্রয়োগ করা হচ্ছে, যদিও বাস্তবায়নে পার্থক্য রয়ে যায়।
প্রিমিয়ার লীগে গড় মেয়াদ কমে যাওয়ার অন্যতম ব্যতিক্রম হল ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গুআরদিয়োলার দশ বছরব্যাপী কোচিং। তার দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি গড়কে কিছুটা বাড়িয়ে রাখে, তবে তার অনুপস্থিতিতে গড় মেয়াদ আরও কমে যেত।
টটেনহ্যাম বিশেষভাবে কোচের ঘূর্ণন দেখেছে; এখন পর্যন্ত ছয়জন স্থায়ী কোচ এবং চারজন ইন্টারিম কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন দলকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাধা দেয় এবং ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।
নটিংহাম ফরেস্টের ক্ষেত্রে শিন ডাইচের পদত্যাগের পর ক্লাবের নতুন কোচের সন্ধান চলছে, আর টটেনহ্যামও শীঘ্রই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি ঘোষণা করবে। উভয় ক্লাবই শীঘ্রই নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে পরবর্তী ম্যাচে ফলাফল উন্নত করা যায়।



