ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার মগবাজার আল ফালাহ মিলনায়তনে পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পার্টির জয়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নীতি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করা। ডা. রহমানের ভাষণে জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো ছাড় না দেওয়ার প্রতিজ্ঞা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
সভার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামির বিজয়ী সংসদ সদস্য, পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সমর্থকগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল এবং অংশগ্রহণকারীরা পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। ডা. রহমানের বক্তব্যের পরে উপস্থিত সবাই মনোযোগ সহকারে শোনেন।
“জনগণ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে অতিষ্ঠ। এ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে উদ্ধার করতে সরকারি দল আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব। এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা থেকে জাতিকে বের করে আনা এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব।” ডা. রহমান এই উদ্ধৃতি দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মোকাবিলায় সরকারী দলের সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি।
ডা. রহমানের মতে, জুলাই আকাঙ্ক্ষা পূরণে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না এবং পুরো জাতি কার্যত জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছে। “জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। পুরো জাতি কার্যত জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছে। জাতির এই অবদানকে স্মরণ রেখে যদি সংসদ পরিচালিত হয়, তবে এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি আমরা জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে ভুলে যাই, তবে এই জাতির ভাগ্যে বারবার জুলাই ফিরে আসতে পারে। আমরা চাই, যে কারণে জুলাই ফিরে এসেছে, সেই কারণ যেন আর দ্বিতীয়বার তৈরি না হয়।” তিনি অতীতের ত্যাগকে স্মরণ করে ভবিষ্যতে একই ভুল না করার আহ্বান জানান।
ডা. রহমান জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে অতীতের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। “বৈষম্য সৃষ্টি ও ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তর না হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়েছিল। সেই যুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের সকলের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ডা. রহমান বলেন, “দেশবাসী, বিশেষ করে যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন এবং ভোট দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন, তাদের সকলকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই। নির্বাচনের ফলাফলে জনগণের প্রত্যাশা পূর্ণ প্রতিফলন হোক বা না হোক, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখাবো।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পার্টি নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নয়ন সম্পর্কে ডা. রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। “অতীতে এদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তবে সরকারি ও বিরোধী দল যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। এটি অর্জনে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও আন্তরিকতা থাকলে আমরা সফল হবো ইনশাআল্লাহ।” তিনি পার্টির দায়িত্বশীল আচরণকে গণতন্ত্রের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভার শেষে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পার্টির বিবৃতি অনুযায়ী সরকারী দল ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াত-এ-ইসলামি আগামী সপ্তাহে পার্টির নীতি সমিতি গঠন এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত সভা পরিকল্পনা করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জুলাই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই ধরনের স্পষ্ট অবস্থান পার্টির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা এবং অন্যান্য দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত। জামায়াত-এ-ইসলামির এই নতুন রণকৌশল দেশের রাজনৈতিক গতিপথে কী পরিবর্তন আনবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



