20 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান ও শাহনাজ রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাদ...

ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান ও শাহনাজ রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে

ঢাকায় দ্যুতি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আজকের শুনানিতে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, সিইও সিমিন রহমান এবং অন্য চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা জালিয়াতি মামলাকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়েছেন। অভিযোগটি সিমিনের বোন শাহজরেহ হুকের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছিল এবং আজ পর্যন্ত মোট চারটি মামলায় একই গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে এবং তাই অভিযোগ গঠন করা সম্ভব নয়। আদালত দুইটি ডিচার্জ পিটিশন গ্রহণ করে, যা প্রতিরক্ষা দল থেকে দাখিল করা হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা দলের যুক্তি ছিল যে, শেয়ার ট্রান্সফার জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগে প্রয়োজনীয় নথি, বিশেষ করে ফর্ম-১১৭ শেয়ার ট্রান্সফার ডিড, সংগ্রহ করা হয়নি এবং কোনো বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা চালানো হয়নি। এই ঘাটতি আদালতে উল্লেখ করা হয় এবং তা ভিত্তি করে ডিচার্জ পিটিশন অনুমোদিত হয়।

অভিযুক্তদের ডিচার্জের মূল কারণ হিসেবে আদালত উল্লেখ করেছে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জ শিটে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদিও অভিযোগকারী পক্ষের প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়, তবু আদালত তদন্তকারীকে এই অযথা চার্জ শিট দাখিলের জন্য সতর্ক করেছে।

অধিকন্তু, আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ভুল এড়ানো যায়। এই পদক্ষেপে তার দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা যাচাইয়ের জন্য বিভাগীয় তদন্ত অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

শাহজরেহ হুক, যিনি গুলশান থানা থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মামলাটি দায়ের করেন, তার বিরুদ্ধে এখন আর কোনো চলমান মামলা নেই। তার দায়ের করা চারটি মামলায় সবই আজকের আদেশে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে কোনো বাকি অভিযোগ অবশিষ্ট নেই।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর সাইয়েদ সাজেদুর রহমান ১১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে চার্জ শিট দাখিল করেন। তবে সেই শিটে শেয়ার ট্রান্সফার ডিডের মূল নথি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এবং কোনো ফরেনসিক বিশ্লেষণ না করা থাকায় আদালত তা অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

ট্রান্সকম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই রকম আইনি বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ ও ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি এখনো চলমান, এবং এই রকম মামলা দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট রেটিং ও বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস করতে পারে।

আইনি পরিষ্কারতা পাওয়া সত্ত্বেও, বাজারে গ্রুপের শেয়ার মূল্যে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এখনো গ্রুপের আর্থিক স্বচ্ছতা ও শাসন কাঠামোর উপর নজর রাখবেন, বিশেষ করে ভবিষ্যতে অনুরূপ আইনি ঝুঁকি এড়াতে কী ধরনের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে তা মূল্যায়ন করবেন।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের ডিচার্জের পরেও কোম্পানিগুলোকে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি না হয়। ট্রান্সকমের ব্যবস্থাপনা দলকে এখনো অভ্যন্তরীণ অডিট ও সম্মতি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হবে, যাতে শেয়ার ট্রান্সফার ও অন্যান্য লেনদেনে কোনো ত্রুটি না থাকে।

সারসংক্ষেপে, আজকের আদালতের আদেশ ট্রান্সকম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান সব ফৌজদারি অভিযোগকে শেষ করে দিয়েছে। যদিও আইনি দিক থেকে পরিষ্কারতা এসেছে, তবে ব্যবসায়িক পরিবেশে গ্রুপের সুনাম পুনর্গঠন ও বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার এখনো একটি চলমান কাজ। ভবিষ্যতে গ্রুপের পরিচালনায় আরও কঠোর শাসন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে বলে আশা করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments