সোমবার বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর বাড়তে থাকা সহিংসতা যদি অবিলম্বে রোধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশ আরেকটি অভ্যুত্থানের সাক্ষী হতে পারে। তিনি এই মন্তব্য করেন যখন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়।
সমাবেশটি নির্বাচনের পর ঘটমান অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ প্রতিবাদ হিসেবে সংগঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার দাবি জানায়।
নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলা, গৃহবিনাশ এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়ছে। এই ধরনের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রশ্ন তুলেছে, ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নির্বাচনের জালিয়াতি, অনিয়ম এবং পরবর্তী সহিংসতার কারণে নষ্ট হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন না হলে দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে “না ভোট” এবং “ধানের শীষের ভোট” সমান পরিমাণে পাওয়া গিয়েছিল। এই সমতা নির্দেশ করে যে ভোটাররা নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে গভীর সন্দেহ পোষণ করছিল।
গোলাম পরওয়ার জানান, তাদের দল “না ভোট” প্রচার চালিয়ে ভোটারদের নির্বাচনের বৈধতা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রচারাভিযানটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাসের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করেন, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জনমতকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে শাসন চালানো হয়, তবে সেই শাসকদেরই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই মন্তব্যটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অধিকাংশের অধিকার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বহু দলীয় গঠন নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা দাবি করে, সরকার দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, যদি সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে সামরিক হস্তক্ষেপ বা অভ্যুত্থানের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সম্ভাবনা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই সতর্কতার প্রতি সরাসরি কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান শহরগুলোতে বাড়তি টহল চালু করেছে। এই পদক্ষেপগুলো জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াত-এ-ইসলামির নেতৃত্বাধীন ঐক্য দল ভবিষ্যতে আরও প্রতিবাদ ও র্যালি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যাতে নির্বাচনী জালিয়াতি ও পোস্ট-ইলেকশন অপরাধের তদন্তের দাবি তীব্র করা যায়। তারা স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এই সতর্কতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা প্রকাশ করে। যদি সহিংসতা এবং অবিচার অব্যাহত থাকে, তবে তা সংবিধানিক সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



