বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তার দায়িত্বকালে নৈতিকতা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান, আয়েশা আক্তার এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি কখনো নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করেননি এবং সবসময় দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, নৈতিকতা ছাড়া কোনো নীতি কার্যকর করা সম্ভব নয় এবং তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি গঠন করে।
উপদেষ্টা আরও জানান, তার কাজের সময় তিনি কেবল দেশের সমৃদ্ধি ও জনগণের মঙ্গলের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়সঙ্গত নীতি অনুসরণ করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। এই নীতিগুলোকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক ধরনের সম্পদ হিসেবে দেখেন।
কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সম্পর্কে প্রথমে তার ধারণা ছিল খুবই নেতিবাচক। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাদের কাজের গুণমান ও নিষ্ঠা দেখে কৃতজ্ঞতা অনুভব করেন। তিনি বলেন, এই কর্মকর্তারা দেশের সম্পদ এবং সঠিক নেতৃত্বের অধীনে তারা আরও উৎকৃষ্ট ফলাফল দিতে সক্ষম।
শেখ বশিরউদ্দীন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান যে পরিবর্তন এনেছে, তা সকলকে অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণ করতে হবে, এমনটি তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো অন্যায় কাজের সুযোগ নেই এবং সবার উচিত ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সকলকে সতর্ক করেন যে, ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না।
উপদেষ্টা জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দিনটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষ উদযাপনের সুযোগ হবে। তিনি সকল কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন, নতুন মন্ত্রীর কাজের সময় সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে। তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি ও দিকনির্দেশনা আরও শক্তিশালী হবে।
তাছাড়া, তিনি কর্মকর্তাদেরকে সরাসরি এবং স্পষ্টভাবে মতবিরোধ প্রকাশ করার পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বিমত পোষণ করা স্বাভাবিক, তবে তা মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি এবং সম্মানজনকভাবে ভাগ করা উচিত। এই পদ্ধতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কার্যকারিতা বাড়াবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান, আয়েশা আক্তার এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী উপদেষ্টার বিদায়ী বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে তালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বিদায়ের সময় উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কর্মপদ্ধতিতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং জনমঙ্গলের প্রতি অটল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা একসাথে কাজ করে বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন। এই পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে।



