গাজি আশরাফ হোসেনের দুই বছরের প্রধান সিলেক্টর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চলেছে, এবং তিনি আর এই পদে থাকবেন না বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিনহাজুল আবেদিনের পরিবর্তে এই দায়িত্বে নিযুক্ত হন, তখন থেকে জাতীয় দলের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গাজি আশরাফ হোসেন ৫ই ফেব্রুয়ারি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে তার অপ্রাপ্যতা জানিয়ে দেন এবং মেয়াদ শেষের পর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি স্বাস্থ্যের দিক এবং ব্যক্তিগত কারণের জন্য আর নির্বাচনী দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সমাপ্তি চান। এই তথ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি ক্রিকবাজের সঙ্গে শেয়ার করেন, এবং গাজি আশরাফ হোসেন নিজেও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুই বছরের মেয়াদে গাজি আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে দলটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দল গঠনের সময় পারফরম্যান্স ভিত্তিক নির্বাচন নীতি মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। তার সময়কালে কিছু নতুন মুখ জাতীয় দলে উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেয়াদ শেষের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রধান সিলেক্টর নির্বাচন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিটি প্রস্তাবিত প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে, এবং তা আগামী মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করে নতুন সিলেক্টর নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে গাজি আশরাফ হোসেনের অবদানকে সম্মান করা হবে এবং তার কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নতুন সিলেক্টর নির্বাচন স্বচ্ছভাবে করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে গাজি আশরাফ হোসেনের বিদায়ের সময় তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যাতে পরিবর্তনের সময়েও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
গাজি আশরাফ হোসেনের প্রস্থানের পর তার অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে কাজে লাগাতে দলটি তাকে পরামর্শদাতা বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। যদিও তিনি প্রধান সিলেক্টর পদ ছেড়ে যাচ্ছেন, তবে তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলের জন্য মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।
তার প্রস্থানের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাঠামো ও নীতি বজায় থাকবে। নতুন সিলেক্টরকে দলের বর্তমান শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে, পরবর্তী সিরিজের জন্য সঠিক সংযোজন করতে হবে। এই পরিবর্তনটি দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজি আশরাফ হোসেনের দুই বছরের সেবা শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। নতুন মুখের সঙ্গে দলটি নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখার জন্য কৌশল গড়ে তুলবে। এই পরিবর্তনটি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ আনবে, এবং ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে দলকে আরও দৃঢ় করবে।



