শ্রীলঙ্কার তরুণ গতি বোলার মাথীশা পাথিরানা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ম্যাচের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলের সময় হ্যামস্ট্রিংে আঘাতের সন্দেহে মাঠ ছেড়ে যান। ২৩ বছর বয়সী পাথিরানা, যাকে শ্রীলঙ্কার গতি আক্রমণের মূল স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়, পল্লেকেলে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচের শুরুর মুহূর্তেই অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের তৃতীয় বলের পর, পাথিরানা তার ফলো-থ্রুতে হঠাৎ করে বাম পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং তৎক্ষণাৎ মাটিতে গিয়ে পা ধরেন। মাঠের চিকিৎসক দল দ্রুত তার কাছে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে, তবে তার অবস্থা তীব্র হওয়ায় তাকে স্টেডিয়ামের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলঙ্কা দলের কোচিং স্টাফ এবং সহকর্মী খেলোয়াড়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা উদ্ধৃতি প্রকাশ করা হয়নি। পাথিরানার অপ্রত্যাশিত প্রস্থান শ্রীলঙ্কার গতি দলে তাত্ক্ষণিক শূন্যতা তৈরি করে, যা অস্ট্রেলিয়া দলের আক্রমণকে সাময়িকভাবে সহজে মোকাবেলা করার সুযোগ দেয়।
এই ম্যাচটি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি, যেখানে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্থান অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাথিরানা মাত্র চার বলই ফেলেছেন, তাই তার ব্যক্তিগত ওভারের পরিসংখ্যান এখনো অল্পই। তবে তার দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বোলিং পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনবে, কারণ দলকে বিকল্প গতি বোলারদের ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের মোকাবিলা করতে হবে।
ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা পরবর্তী ম্যাচে আবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে, তাই পাথিরানার শারীরিক অবস্থা এবং পুনরুদ্ধারের সময়সূচি দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টুর্নামেন্টের আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, কোনো খেলোয়াড়ের আঘাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা সর্বোচ্চ মানের হবে এবং খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার সর্বদা বজায় থাকবে।
পাথিরানার আঘাতের সঠিক প্রকৃতি ও পুনরুদ্ধার সময় সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, শ্রীলঙ্কা দলের মেডিক্যাল স্টাফের মতে, এটি হ্যামস্ট্রিং মাংশপেশীর সম্ভাব্য টান বা ফাটল হতে পারে, যা তীব্র বিশ্রাম ও পুনর্বাসন প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নির্ভর করবে চিকিৎসা ফলাফলের ওপর।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা ম্যাচের পর মিডিয়া কনফারেন্সে উল্লেখ করেছেন যে, দলটি এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরেও টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং বিকল্প বোলারদের ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
অস্ট্রেলিয়া দলও পাথিরানার আঘাতের পর দ্রুত স্কোরিং চালিয়ে যায়, তবে ম্যাচের ফলাফল ও স্কোরের বিশদ তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। টি২০ বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি দলের জন্য আঘাতজনিত অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ, এবং শ্রীলঙ্কা এখনই তার বোলিং রোস্টারকে পুনর্গঠন করতে হবে।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কঠোর প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে, এবং পাথিরানার দ্রুত সেরে ওঠা শ্রীলঙ্কার জন্য বড় সান্ত্বনা হবে।



