বাজ লুহারম্যান পরিচালিত ‘EPiC: Elvis Presley in Concert’ চলচ্চিত্রটি ২০ ফেব্রুয়ারি ইম্যাক্সে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি সাধারণ থিয়েটারে প্রকাশিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের সময়কাল নিয়ে পি.জি‑১৩ রেটিং পেয়েছে এবং এলভিস প্রেসলির জীবনের সঙ্গীত পারফরম্যান্সকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।
এলভিসের গানের পুনর্জীবন নিয়ে প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজটি ২০০২ সালে ডাচ ডি.জে‑প্রোডিউসার টম হোলকেনবর্গ, যিনি জাঙ্কি এক্সএল নামে পরিচিত, তার রিমিক্সে দেখা যায়। তিনি ‘A Little Less Conversation’ গানের ব্যাকবিটে তীব্র ড্রাম ও গিটার যোগ করে, নাইকি (নাইকি) বিজ্ঞাপনের জন্য পুনর্নির্মাণ করেন। এই সংস্করণটি বিশ্বব্যাপী ক্লাবগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে ২০টিরও বেশি দেশে চার্টের শীর্ষে পৌঁছায়।
লুহারম্যানের ২০২২ সালের ‘Elvis’ বায়ো‑ড্রামা চলচ্চিত্রের পর, তিনি একই বিষয়কে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। ‘EPiC’ শিরোনামটি কোনো অতিরঞ্জন নয়; এটি এলভিসের পারফরম্যান্সকে আর্কাইভাল ডকুমেন্টারি এবং কনসার্ট ফিল্মের মিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপন করে।
চলচ্চিত্রটি ইম্যাক্স স্ক্রিনে প্রথম প্রদর্শিত হওয়ায় দর্শকরা বিশাল স্ক্রিনে এলভিসের পারফরম্যান্সের ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। পরবর্তীতে সাধারণ থিয়েটারে মুক্তি পেয়ে এটি বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছে।
প্রকাশের আগে, চলচ্চিত্রের ট্রেলার ও পোস্টারগুলোতে এলভিসের আইকনিক স্টেজ পোশাক ও আলোকসজ্জা দেখা যায়, যা তার উজ্জ্বল শৈলীকে পুনরায় তুলে ধরে। লুহারম্যানের পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি তার পূর্বের কাজের তুলনায় আরও উজ্জ্বল রঙ ও গতিশীল ক্যামেরা ব্যবহার করেছে।
‘EPiC’ এর মূল কাঠামো হল এলভিসের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের আর্কাইভাল ফুটেজকে আধুনিক সাউন্ড মিক্সের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এতে ১৯৬০‑এর কনসার্ট, টেলিভিশন শো এবং চলচ্চিত্রের দৃশ্যগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যা দর্শকদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সেতু গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
চলচ্চিত্রের সময়সূচি ও রেটিং সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, বিভিন্ন সিনেমা সমালোচকরা এটিকে শুধুমাত্র আর্কাইভাল ডকুমেন্টারি নয়, বরং একটি থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, চলচ্চিত্রটি এলভিসের ভক্তদের জন্য একটি শক্তিশালী সঙ্গীত ও ভিজ্যুয়াল উপহার এবং প্রথমবারের মতো তার পারফরম্যান্সকে সম্পূর্ণভাবে অনুভব করার সুযোগ দেয়।
‘EPiC’ এর সাউন্ডট্র্যাকের জন্য মূলত এলভিসের মূল রেকর্ডিং ব্যবহার করা হয়েছে, তবে আধুনিক অডিও টেকনোলজি দিয়ে পুনরায় মিক্স করা হয়েছে। এতে গিটার, হর্ন এবং ড্রামসের তীব্রতা বাড়িয়ে, দর্শকের কাছে আরও প্রাণবন্ত শোনায়।
চলচ্চিত্রের প্রযোজনা দলটি উল্লেখ করেছে যে, তারা এলভিসের পারফরম্যান্সের মূল আত্মা বজায় রেখে, আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তা পুনরায় তৈরি করেছে। এতে তার স্টেজ উপস্থিতি, নাচের স্টাইল এবং গানের উত্সাহ সবই স্পষ্টভাবে ফুটে আছে।
প্রকাশের পর, টিকিট বিক্রি দ্রুত বাড়ার ফলে ইম্যাক্স স্ক্রিনে পূর্ণ বসে যাওয়া দেখা গেছে। সাধারণ থিয়েটারেও প্রথম সপ্তাহে উচ্চ বিক্রয় রেকর্ড করা হয়েছে, যা এলভিসের জনপ্রিয়তা এখনও বজায় আছে তা নির্দেশ করে।
‘EPiC’ এর প্রচারাভিযানে সামাজিক মিডিয়ায় এলভিসের ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক। অনেকেই পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, চলচ্চিত্রটি তাদেরকে তার সঙ্গীতের প্রতি নতুন উন্মাদনা জাগিয়ে তুলেছে এবং তার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘EPiC: Elvis Presley in Concert’ চলচ্চিত্রটি এলভিসের সঙ্গীত ও পারফরম্যান্সকে আধুনিক ফরম্যাটে উপস্থাপন করে, যা তার ভক্ত এবং নতুন দর্শকদের উভয়েরই প্রশংসা অর্জন করেছে। চলচ্চিত্রের মুক্তি ও ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা এলভিসের সাংস্কৃতিক প্রভাবের দীর্ঘস্থায়িত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।



