মঙ্গলবারের টুয়েন্টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সি ম্যাচে ইংল্যান্ড ২৪ রানের পার্থক্যে ইতালিকে হারিয়ে সুপার ইটস পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ ইতালি ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে ছিল, আর ইংল্যান্ডের জয় তাদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পথে নতুন আত্মবিশ্বাস যোগায়।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপে সাত নম্বরে আসা উইল জ্যাক্সের পারফরম্যান্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি ২২ ball-এ ৫৩ রান তৈরি করে অটুট অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোর ২০২/৭‑এর ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করে। জ্যাক্সের আক্রমণাত্মক স্ট্রোকের ফলে ইংল্যান্ডের রানের গতি দ্রুত বাড়ে এবং প্রতিপক্ষের বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়।
বোলিং দিক থেকে সাম কার্রানের ত্রয়ী উইকেটের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মোট তিনটি উইকেট নেন, যার মধ্যে ১৯তম ওভারে গ্র্যান্ট স্টুয়ার্টকে ৪৫ রানে আউট করা সবচেয়ে স্মরণীয়। কার্রানের সঠিক লাইন এবং পরিবর্তনশীল গতি ইতালির ব্যাটসম্যানদের শৃঙ্খলা ভেঙে দেয় এবং স্কোরের গতি ধীর করে।
ইতালির দিক থেকে বেন মানেন্টি দ্রুত ৬০ রান করে দলের শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। তার আক্রমণাত্মক খেলা ইতালির চেজ বাড়িয়ে তুললেও, ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোর ফলে শীর্ষ স্কোরে পৌঁছাতে পারেনি। মানেন্টি ছাড়া অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিক রান তৈরি করতে পারেনি, ফলে ইতালির শিকড় দ্রুত কমে যায়।
ইতালি ২০২ রানের লক্ষ্য নিয়ে শুরুর ওভারে আক্রমণ চালায়, তবে ইংল্যান্ডের বোলারদের ধারাবাহিক চাপের ফলে শীঘ্রই ওভারের শেষের দিকে স্কোর কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ইতালি ১৭৮ রানে আটকে যায়, ফলে ইংল্যান্ডের ২৪ রানের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত হয়। এই জয় ইংল্যান্ডের গ্রুপ সি ক্যাম্পেইনের তৃতীয় বিজয়, এবং টুর্নামেন্টে তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করে।
গ্রুপ সি-তে ইংল্যান্ডের রেকর্ড এখন তিনটি জয় এবং একটি পরাজয় নিয়ে গঠিত, যেখানে একমাত্র পরাজয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও একই রেকর্ড নিয়ে সুপার ইটস পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে, ফলে দুই দলই পরবর্তী রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ইতালি, যদিও টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে, তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে একটি ডেড রাবার ম্যাচ খেলবে, যা বৃহস্পতিবার নির্ধারিত। এই ম্যাচটি ইতালির জন্য শেষ সুযোগ হবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পারফরম্যান্স দেখানোর।
ইংল্যান্ডের জয় এবং সুপার ইটস পর্যায়ে অগ্রসর হওয়া টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে। টুর্নামেন্টের অগ্রগতি এবং দলীয় কৌশল সম্পর্কে আরও বিশদ বিশ্লেষণ পরবর্তী প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হবে।



