23 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামহিলা রাগবি খেলোয়াড় জর্জিয়া ইভান্সের চেহারার ওপর অনলাইন সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

মহিলা রাগবি খেলোয়াড় জর্জিয়া ইভান্সের চেহারার ওপর অনলাইন সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের মহিলা রাগবি বিশ্বকাপের সময় ওয়েলস ও সারাসেন্সের রাগবি খেলোয়াড় জর্জিয়া ইভান্সকে অনলাইন মন্তব্যে তার চেহারা নিয়ে আক্রমণ করা হয়। মেকআপ, চুলের স্টাইল এবং হেয়ারবো ব্যবহার নিয়ে সমালোচকরা তার পারফরম্যান্সকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদিও তিনি মাঠে তার দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়ে কথা বলেছেন।

ইভান্সের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে থেকেই তিনি লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিওটাইপের শিকার হন। “বাটচ লেসবিয়ান” বলে তাকে অপমান করা হয় এবং তার যৌন পরিচয়কে তার চেহারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার যৌনতা তার গার্লি বা বাটচ চেহারার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না এবং তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক নন।

খেলোয়াড়টি জানান, ম্যাচের দিন তিনি ত্বককে ট্যান করে, নখ সাজিয়ে এবং চুলের স্টাইল ঠিক করে মাঠে ওঠেন। মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলের রুটিন তাকে ক্যামেরার দৃষ্টির চাপ থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেয়, ফলে তিনি নিজের উপর বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। তবে ২০২৫ সালের বিশ্বকাপের সময় তার চেহারার ওপর সমালোচনা তীব্রতর হয়; কিছু মন্তব্যকারী এমনকি দাবি করেন যে তার মেকআপ ও হেয়ারবো দলকে হারের দায়ী করেছে।

ইভান্স এই ধরনের মন্তব্যের প্রতি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জবাব দেন। তিনি তার ইনস্টাগ্রাম ফিডে উল্লেখ করেন যে রাগবি খেলোয়াড়ের মূল্য তার লিঙ্গ বা চেহারার ওপর নির্ভর করে না, বরং মাঠে তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি আমার খেলা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই, না যে আমি কীভাবে সাজি তা নিয়ে আলোচনা হয়।”

একই সময়ে, নারী ক্রীড়া সংস্থা Women in Sport-এর একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়, যেখানে দেখা যায় ২০২০ সালের পর থেকে পেশাদার ক্রীড়া ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখার মেয়েদের সংখ্যা সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। সংস্থাটি এই পতনের মূল কারণ হিসেবে লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিওটাইপ ও সামাজিক প্রত্যাশা উল্লেখ করে। সমীক্ষা অনুযায়ী, মেয়েরা প্রায়ই এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠে যেখানে তাদের শারীরিক চেহারা বা নারীত্বের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়, ফলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ কমে যায়।

ইভান্সের অভিজ্ঞতা ও সমীক্ষার ফলাফল উভয়ই স্পষ্ট করে যে, নারী ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন প্রায়শই তাদের চেহারা ও লিঙ্গ পরিচয়ের সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত হয়। এই ধরনের মনোভাব ক্রীড়া জগতে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে।

রাগবি ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে আহ্বান করা হচ্ছে যে, খেলোয়াড়দের চেহারা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য বন্ধ করে তাদের ক্রীড়া দক্ষতা ও অর্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হোক। একই সঙ্গে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ; তারা তরুণ মেয়েদের ক্রীড়া সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে এবং স্টেরিওটাইপ দূর করতে সহায়তা করতে পারে।

ইভান্সের মত খেলোয়াড়রা যখন নিজেদের পরিচয় ও চেহারার স্বাধীনতা বজায় রেখে মাঠে পারফরম্যান্স দেখান, তখন তা ক্রীড়া জগতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী ক্রীড়াবিদকে সমর্থন ও সম্মান দিয়ে তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments