চট্টগ্রামের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক (ইপিজেড) এলাকা থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতভর চুরি হওয়া ট্রাকের ভাঙ্গা অংশ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় যুবদল সদস্য সচিব ইমাম হোসেন পবিরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
চুরি হওয়া ট্রাকের মালিক মোঃ হারুন মিয়া জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সময় গাড়িটি ইপিজেড এলাকার এক গুদাম থেকে অচেনা গাড়ি চালক দ্বারা নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়ি হারিয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গাড়ির ড্রাইভারকে গ্রেফতার করে, তার জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় গাড়িটি চট্টগ্রাম থেকে ফেনীর লাল পোলে নিয়ে যাওয়া হয়। লাল পোলে পৌঁছে গাড়িটি সোনাগাজীর ছাড়াই এলাকায় গোপনে ফেলা হয়। পুলিশ পরবর্তীতে সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইকান্দি গ্রামের পরিত্যক্ত বাড়ি এবং কাছাকাছি পুকুরে অনুসন্ধান চালায়।
১৫ ফেব্রুয়ারি রাতভর পরিচালিত অনুসন্ধানে গাড়ির ভাঙ্গা অংশগুলো একাধিক টুকরোতে পাওয়া যায়। প্রথমে একটি অংশ বাড়ির ভেতরে পাওয়া যায়, পরে পুকুরের কাছাকাছি জমিতে অবশিষ্ট অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। গৃহস্থালির ছাদে গাছের নিচে গোপন করা এই অংশগুলোকে পুলিশ দ্রুত ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য রেফার করে।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয় যে, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শের বিরোধিতা এবং বিভিন্ন অনাচারের কারণে ইমাম হোসেন পবিরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে কার্যকর করেছেন।
ইমাম হোসেন পবিরের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, “আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত নই। আমরা ওই বাড়িতে ১৭ বছর ধরে বসবাস করি না; এটি পরিত্যক্ত বাড়ি, যার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি এই কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” তার এই বক্তব্যের পরেও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
চট্টগ্রাম ইপিজেড থানা এসআই আল আমিন মিয়া জানান, গাড়ি চুরি হওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং গাড়ির গন্তব্যস্থল সনাক্ত করে ফেনীর লাল পোলে পৌঁছানো পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গাড়ি লাল পোলে পৌঁছানোর পর সোনাগাজীর ছাড়াই এলাকায় গোপন করে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে অনুসন্ধান দল আবিষ্কার করে।
গাড়ির মালিক হারুন মিয়া উল্লেখ করেন, “গাড়ি চুরি হওয়ার পর থেকে আমরা ধারাবাহিকভাবে পুলিশকে তথ্য সরবরাহ করেছি। আজ ট্রাকের অংশগুলো ফিরে পেয়ে আমরা স্বস্তি বোধ করছি, তবে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার।”
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে জানায়। বর্তমান পর্যায়ে গৃহীত শাস্তি ও গাড়ির অংশের পুনরুদ্ধার উভয়ই আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ির অবশিষ্ট অংশের ফরেনসিক বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার পর গাড়ির চুরি ও বিক্রয় সংক্রান্ত অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, যুবদল সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তি দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম ও ফেনীর মধ্যে অপরাধমূলক সংযোগের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বিত অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



