শীতকালীন অলিম্পিকের কোর্টিনা কুর্লিং স্টেডিয়ামে দুই দিন ধারাবাহিক উত্তেজনা ও বিতর্কের মঞ্চ তৈরি হয়। কানাডার মার্ক কেনেডি এবং সুইডেনের ওস্কার এরিকসন ৮-৬ স্কোরে কানাডার জয় নিশ্চিত করার পরই তীব্র কথোপকথনে লিপ্ত হন।
কেনেডি ও তার দল স্বীকার করে যে শটের সময় তিনি পাথরের হ্যান্ডেল ছেড়ে দেন, তবে স্বীকারোক্তি অনুসারে তিনি অতিরিক্তভাবে আঙুল দিয়ে পাথরকে সামান্য সমন্বয় করার চেষ্টা করেন। কুর্লিং নিয়ম অনুযায়ী একবার হ্যান্ডেল ছেড়ে দেওয়ার পর পুনরায় স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, যা স্বীকারোক্তি ভিত্তিক অভিযোগের মূল বিষয়।
বিরোধের পর উভয় দলই ম্যাচের শেষে স্বাক্ষরিত কার্ড জমা দেয়, ফলে ফলাফল অপরিবর্তিত থাকে। বিশ্ব কুর্লিং সংস্থা এই বিষয়ে জোর দিয়ে বলে যে ম্যাচ চলাকালীন নেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং ভিডিও রিভিউ দিয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
কেনেডি শুধুমাত্র অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের জন্য শাস্তি পায়। অন্য কোনো শাস্তি বা ম্যাচের ফলাফলে পরিবর্তন করা হয়নি, যা কুর্লিংয়ের স্ব-শাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এরিকসন বিতর্কের সময় বলেন, “ভিডিও পরে দেখাবো” এবং পরে ম্যাচের পর ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কেনেডি কীভাবে পাথরকে সামান্য স্পর্শ করছেন তা দেখা যায়, তবে ভিডিওর উৎস নিয়ে উভয় পক্ষেরই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকে।
কানাডা দল দাবি করে যে ভিডিওটি পূর্ব পরিকল্পিত একটি ফাঁদ, যেখানে সুইডেনের কোনো ব্যক্তি তাদের ধরা পড়ার জন্য গোপন ক্যামেরা ব্যবহার করেছে। তারা উল্লেখ করে যে কুর্লিং একটি বিশ্বাস ও সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা খেলা, তাই এমন কোনো চিত্রায়ন অনৈতিক।
বিরোধের মাঝেও অলিম্পিক কমিটি কুর্লিংয়ের নিয়মাবলীতে কিছু পরিবর্তন আনে। ম্যাচের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও রেফারির দায়িত্ব পুনর্বিবেচনা করা হয়, যা কিছু দলকে অসন্তোষের মুখে ফেলে। পরিবর্তিত প্রোটোকল নিয়ে দলগুলোর মধ্যে প্রতিবাদও দেখা যায়।
শনিবারে কানাডা আবার আইসের উপর ফিরে আসে, এবার সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯-৫ স্কোরে পরাজিত হয়। সুইজারল্যান্ডের দলও একই অভিযোগে কেনেডিকে রেফারির কাছে রিপোর্ট করে, দাবি করে যে তিনি আবার একই ধরনের ডাবল-টাচ করেছেন।
তবে রেফারি কোনো অতিরিক্ত শাস্তি না দিয়ে পূর্বের মতই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে। বিশ্ব কুর্লিং সংস্থা পুনরায় নিশ্চিত করে যে ম্যাচের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং ভিডিও রিভিউয়ের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হয় না।
এই ঘটনাগুলো কুর্লিংয়ের স্ব-শাসন ও খেলোয়াড়ের সততার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। খেলাটির ঐতিহ্যগতভাবে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীলতা এই ধরনের বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
অলিম্পিকের কুর্লিং প্রতিযোগিতা এখনও চলমান, এবং দলগুলো পরবর্তী রাউন্ডে আবার আইসে ফিরে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও, খেলোয়াড় ও কোচরা পরবর্তী ম্যাচে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে, যাতে প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।



