দিল্লি হাইকোর্টের একটি আদেশে বয়স্ক বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় সাময়িক বেইল দেওয়া হয়েছে। আদালত তার শাস্তি স্থগিত করে, যাতে তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি তার ভাইয়ের বোনের বিয়ে উপস্থিত হতে পারেন। তবে মামলার মূল বিষয় এখনও বিচারাধীন, এবং ১৮ মার্চের প্রধান শুনানিতে তিনি শারীরিক বা ভার্চুয়াল উপস্থিতি বজায় রাখতে বাধ্য।
মামলাটি ২০১০ সালে শুরু হয়, যখন যাদব দিল্লি ভিত্তিক মুরালি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কোটি টাকা ঋণ নেন তার প্রথম পরিচালনা প্রকল্প “আটা পাতা লাপাতা”র জন্য। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্র বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, ফলে ঋণ পরিশোধে বাধা সৃষ্টি হয়। সময়ের সাথে সাথে সুদ ও জরিমানা যোগ হয়ে মোট দাবী প্রায় নয় কোটি টাকায় পৌঁছায়।
২০১৮ সালে যাদবকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে তিন মাস তিনি তিহার জেলে কাটিয়ে দেন। পরবর্তীতে আপিলের অপেক্ষায় বেইল নিয়ে মুক্তি পান। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট পুনরায় মামলাটি তীব্রভাবে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তিনি পূর্বে দেওয়া একাধিক প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে দেন।
২ ফেব্রুয়ারি আদালত উল্লেখ করে, ঋণদাতার সঙ্গে সমঝোতা ও পরিশোধের আলোচনার জন্য ২৫টিরও বেশি সময়সীমা বাড়ানো হলেও, যাদবের পক্ষ থেকে কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অতএব অতিরিক্ত সময়সীমা আর দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে, তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করে তিহার জেলে ফিরে যান, যেখানে বাকি শাস্তি সম্পন্ন করতে হবে।
পরবর্তী শুনানিগুলোতে ১২ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা মামলার মূল উদ্দেশ্যকে পুনরায় জোর দেন—অভিযোগকারীকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান। বিচারক দল ঋণদাতার দাবি পূরণে অগ্রাধিকার দেয় এবং যাদবের কোনো অতিরিক্ত রিলিফের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
বেইল আদেশের শর্তে যাদবকে নির্দিষ্ট তারিখে পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে যে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এই শর্তে তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে না পারলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
মামলার মূল বিষয়, অর্থাৎ ঋণদাতার কাছে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া, এখনও অমীমাংসিত। আদালত পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, যেকোনো অতিরিক্ত সময়সীমা বা রিলিফের জন্য ঋণদাতার সন্তোষজনক সমাধান প্রয়োজন।
রাজপাল যাদবের ক্যারিয়ারকে এই আইনি জটিলতা কিছুটা প্রভাবিত করেছে, তবে তিনি এখনও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে সক্রিয় রয়েছেন। তার ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তার সুস্থতা ও আইনি প্রক্রিয়ার আপডেটের জন্য অপেক্ষা করছেন।
এই মামলায় আর্থিক দায়বদ্ধতা, চেক বাউন্স আইন এবং আদালতের শাস্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বড় ঋণ গ্রহণের পর সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই সাময়িক রিলিফের পরেও যাদবকে আইনগত দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়নি। তিনি এখনো আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত হতে বাধ্য, যাতে মামলার চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হয়।
মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত সম্ভবত ঋণদাতার সঙ্গে সমঝোতা, সম্পূর্ণ পরিশোধের পরিকল্পনা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা বিবেচনা করবে। যাদবের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিনোদন জগতের এই ঘটনা দেখায় যে, শিল্পীজনের আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং আইনি প্রক্রিয়া কতটা জটিল হতে পারে, এবং আদালতের রায়ের প্রভাব তার পেশাগত জীবনেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।



