লালমনিরহাটের নাগেশ্বরী উপজেলা, কুরিগ্রাম জেলায় আজ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এক বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকার জরিমানা পেয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী জয়নুল আবেদিন, মাতিয়ার রহমানের পুত্র, ভুরুংগামারী উপজেলার অন্ধারিঝার ইউনিয়নের বাসিন্দা, স্থানীয়দের নজরে শিকারের সময় ধরা পড়েন। পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেফতার করে, শিকারের জন্য ব্যবহৃত এয়ারগান ও আটটি মৃত পাখি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জয়নুলকে পাখি শিকারের সময় ধরার পর তার ব্যাগে আটটি মৃত পাখি পাওয়া যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ নাগেশ্বরী থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজনকে আটক করে, শিকারের সরঞ্জাম এবং মৃত পাখিগুলি সংগ্রহ করে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (ল্যান্ড) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদের উপস্থিতিতে মোবাইল কোর্ট গঠিত হয়। তিনি现场ে উপস্থিত হয়ে মামলাটি শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে দোষারোপের সিদ্ধান্ত নেন।
দোষারোপের ভিত্তি হল ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ধারা ৬(১), যা অবৈধ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করে। আদালত জয়নুলকে এই ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে।
শাস্তি নির্ধারিত হয় এক বছরের কঠোর কারাদণ্ড, যা কঠোর পরিশ্রমের শর্তে সম্পাদন করতে হবে। এছাড়া এক হাজার টাকার জরিমানা আরোপিত হয়, যা অপরাধের গুরত্বকে তুলে ধরে।
শিকারের জন্য ব্যবহৃত এয়ারগানটি আদালত দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এই অস্ত্রটি অবৈধ শিকারের সরঞ্জাম হিসেবে গণ্য হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই।
মৃত পাখিগুলি পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমাধিস্থ করা হয়, যাতে পরিবেশগত দূষণ রোধ করা যায় এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি সম্মান বজায় থাকে।
বদরুজ্জামান রিশাদ উল্লেখ করেন, সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে এবং অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগে কোনো অবকাশ থাকবে না।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু হয়েছে, যা গ্রামাঞ্চলে শিকারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তা করবে। স্থানীয় জনগণকে আইন মেনে চলতে এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থানে হস্তক্ষেপ না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিকতর তদন্তে দেখা যাবে যে, এ ধরনের শিকারের পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী জড়িত কিনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইন অনুযায়ী, অবৈধ শিকারের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোর এবং পুনরাবৃত্তি করলে শাস্তি বাড়ে। এই মামলায় প্রমাণিত হয়েছে যে, স্থানীয় জনগণ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত কাজ অপরাধ দমন করতে কার্যকর।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে নজরদারি বাড়াবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত রিপোর্ট করার জন্য হটলাইন চালু করবে।
এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা এবং আইনগত ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে, যা দেশের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



