লিউডমিলা নাভালনায়া গত সোমবার মস্কোর বোরিসভস্কি সমাধিতে তার পুত্রের সমাধি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ডার্ট ফ্রগের বিষের উপস্থিতি নাভালনির মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম থেকেই তারা জানত নাভালনি কেবল কারাগারে মারা যায়নি, বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো একই দিনে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, নাভালনির মৃত্যুতে ব্যবহৃত বিষটি ডার্ট ফ্রগের টক্সিন থেকে উদ্ভূত এবং এই ধরনের উচ্চমাত্রার বিষ ব্যবহার করার সক্ষমতা, প্রেরণা ও সুযোগ কেবল রাশিয়ার সরকারই রাখে। বিবৃতিতে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ও রাষ্ট্রের সরাসরি জড়িত থাকার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাস্কোর বোরিসভস্কি সমাধিতে উপস্থিত লিউডমিলা নাভালনায়া বলেন, এই নতুন বৈজ্ঞানিক ফলাফল তাদের দীর্ঘদিনের সন্দেহকে নিশ্চিত করেছে এবং নাভালনির মৃত্যুকে স্বাভাবিক রোগ বা কারাবাসের ফল নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যার ফল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া উচিত। তিনি অতীতের সব অভিযোগকে পুনরায় জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।
রাশিয়া এই অভিযোগকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বলেন, রাশিয়া এমন কোনো অভিযোগ গ্রহণ করে না, তা পক্ষপাতপূর্ণ ও ভিত্তিহীন এবং রাশিয়ার সরকার সম্পূর্ণভাবে এই দাবিগুলোকে অস্বীকার করে।
নাভালনির বিধবা ইউলিয়া নাভালনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সত্য প্রকাশ পেয়েছে এবং একদিন ন্যায়বিচারও অর্জিত হবে। তিনি পূর্বে দুইটি বিদেশি ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা নমুনা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
সেই বিশ্লেষণগুলোতে দেখা গিয়েছিল যে, নাভালনির দেহ থেকে সংগৃহীত জৈবিক নমুনা ডার্ট ফ্রগের বিষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ল্যাবগুলোকে ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তবে ক্রেমলিন তখন কোনো মন্তব্য করেনি।
সমাধিতে বহু মস্কোভীয় নাগরিক এবং কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন, তারা নাভালনির সমাধিতে ফুল অর্পণ করেন এবং সম্মানসূচকভাবে শোক প্রকাশ করেন।
সমাধির পাশে রাখা নোটে লেখা ছিল, “আলেকজেই, আমরা প্রতিদিন তোমাকে স্মরণ করি”। এই বার্তা নাভালনির সমর্থকদের মধ্যে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে।
আলেকজেই নাভালনি ৪৭ বছর বয়সে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে মারা যান, যেখানে তিনি ১৯ বছরের কারাবাসে ছিলেন, যা তাকে “চরমপন্থা” অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়েছিল।
তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে দেশের সর্বত্র প্রতিবাদকে উসকে দিয়েছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাশিয়ার একমাত্র বিরোধী নেতা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।
২০২০ সালে নাভালনি নোভিচক নামে পরিচিত নিউরোটক্সিন দিয়ে গৃহীত বিষক্রিয়ার শিকার হন, তবে তিনি তা থেকে বেঁচে যান। এই ঘটনা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছিল এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
নাভালনির মৃত্যুর এই নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে রাশিয়ার মানবাধিকার রেকর্ডের ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে এবং রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিরোধী গোষ্ঠীর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।



